পাকিস্তানের বিপক্ষে নিশ্চিত সিরিজ জয়ের পথে বাংলাদেশ। গতকাল তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৯১ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। এই কঠিন টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৭ রান প্রথম তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে যায় পাকিস্তান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে নয়টায়) ৩৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান নিয়ে ব্যাট করছিল দলটি। জয় পেতে পাকিস্তানের সামনে তখন দরকার ছিল ৯০ বলে ১১৭ রান। হাতে উইকেট ছিল মাত্র ৪টি। সালমান আগা ৫৪ রানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন। জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ২৯১ রানের টার্গেটটা কঠিনই ছিল। বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। তাসকিনের করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ৬ রানের মাথায় আউট হন সাহিবজাদা ফারহান। ১ চারে ৬ রান করেন তিনি। নাহিদ রানার করা পরের ওভারে নাহিদ রানার শিকারে পরিণত হন মাআজ সাদাকাত (৬)। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে তাসকিন আরও একবার আঘাত করেন। এবার তিনি ফেরান মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। যিনি ৪ রানের বেশি করতে পারেনি। ১৭ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর পাকিস্তান দলের হাল ধরেন আব্দুল সামাদ ও গাজী ঘুরি। চতুর্থ উইকেটে তারা দুজন ৫০ রানের জুটি গড়ে ভালোই জবাব দিচ্ছিলেন। কিন্তু ৬৭ রানের মাথায় নাহিদ রানার বলে গাজী বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি। ৩৯ বলে ৩টি চার ও ১ ছক্কায় ২৯ রান করে যান ঘুরি। দলীয় ৮২ রানে আরো একটি উইকেট হারায় পাকিস্তান। আগের বলে বাউন্ডারি মারলেন আব্দুল সামাদ। পরের বলে মুস্তাফিজুর রহমান নিলেন মধুর প্রতিশোধ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হলেন সামাদ। সামনের দিকে ডাইভ দিয়ে চমৎকার ক্যাচ নিলেন লিটন দাস। ৪৫ বলে পাঁচ চারে ৩৪ রান করেন সামাদ। ১৮ ওভারে পাকিস্তানের রান ৫ উইকেটে ৮৩। এরআগে, তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের পুঁজি পায় টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলায় টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় পাকিস্তান। ফলে প্রথমে ব্যাটিং পায় বাংলাদেশ। তবে টস পক্ষে না গেলেও ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান আর তানজিদ হাসান তামিমের উদ্বোধনী জুটিতে ১৭.৪ ওভারেই আসে ১০০ রান। চলতি সিরিজে তিন ম্যাচে দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন তানজিদ তামিম।

গতকাল তিনি ফিফটি করেন ৪৭ বলে। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি। তামিম-সাইফের ওপেনিং জুটিটি ভাঙে ১০৫ রানে। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ডাউন দ্য উইকেটে চড়াও হতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন সাইফ (৩৬)। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ৫৩ রানের আরেকটি জুটি গড়েন তামিম। হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হন শান্ত (২৭), রিভিউ নিয়েও কাজ হয়নি। তবে ছক্কা হাঁকিয়ে ৯৮ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ তামিম। তার দারুণ এই ইনিংসটি থামান আবরার আহমেদ। কভারে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম। বল সমান ১০৭ রানের ইনিংসে ৬টি বাউন্ডারি আর ৭টি ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি এই ওপেনার। এরপর লিটন দাস ৫১ বলে ৪১ আর শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন অপরাজিত ৪৮ রান। আফিফ হোসেন ৮ বল খেলে মাত্র ৫ রান রান করতে পারেন। নাহলে হয়তো তিনশ পার করা কঠিন হতো না বাংলাদেশের। পাকিস্তানের হারিস রউফ ৫২ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট।