আগামী জুন মাসে বাংলাদেশের মাটিতে ৩টি ওডিআই এবং ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তবে এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অজি স্কোয়াডে নাম নেই প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজেলউডের মতো তারকা পেসারদের। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ এই সফর থেকে তাদের দূরে রাখা নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জনকে ‘ভুল ধারণা’ বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেটাররা নিজেরা ম্যাচ বেছে নিচ্ছেন না, বরং তাদের শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ভবিষ্যতের একটি ‘মনস্টার’ (ভয়াবহ ব্যস্ত) সূচি সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোচ ম্যাকডোনাল্ডের পরিকল্পনা মূলত ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠেয় ওডিআই বিশ্বকাপকে ঘিরে। তবে তার আগের ১২ মাসেই (২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের জুন) অস্ট্রেলিয়ার সামনে রয়েছে পর্বতসম ব্যস্ততা। চার মহাদেশ জুড়ে অজিদের খেলতে হবে ২০টি টেস্ট (বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে ২১টি), ৯টি ওডিআই এবং ৫টি টি-টোয়েন্টি। এর মাঝে আবার প্রায় আড়াই মাস জুড়ে চলবে আইপিএল। সব মিলিয়ে মাত্র সাড়ে ৯ মাসের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ ক্রিকেট খেলার ধকল নিতে হবে পেসারদের। অজি কোচ বলেন, ‘আমরা যদি ২০২৭ সাল থেকে পেছনের দিকে হিসাব করি, তবে শরীরকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার এবং দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস ধরে রাখার জন্য এই জুনের বিরতিটাই আমাদের শেষ বড় সুযোগ। আমরা চাই তারা যেন ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে পারে।’

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চিন্তার আরেকটি বড় কারণ এই তিন বোলারের বয়স এবং সাম্প্রতিক চোট। ২০২৭ বিশ্বকাপ যখন আসবে, তখন স্টার্কের বয়স হবে ৩৭, হ্যাজেলউডের ৩৬ এবং কামিন্সের ৩৪ বছর। তা ছাড়া সম্প্রতি তিন জনই আলাদা আলাদা ইনজুরির মধ্য দিয়ে গেছেন। কামিন্সের পিঠের গুরুতর চোট, হ্যাজেলউডের হ্যামস্ট্রিং এবং স্টার্কের কাঁধ ও কনুইয়ের সমস্যা অজি টিম ম্যানেজমেন্টকে বাড়তি সতর্ক হতে বাধ্য করেছে। আইপিএলে খেললেও তাদের ওডিআই দলের নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০২৭ বিশ্বকাপে তিনিই দলকে নেতৃত্ব দেবেন, তবে তার পিঠের ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের আগের অনেক ওডিআই ম্যাচেই তাকে বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া মৌসুমের পর মেগা এই আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার মাঝে ২০২৭ সালের আইপিএল উইন্ডোটি আরও বড় জটিলতা তৈরি করবে। সে বছর ভারতের মাটিতে ৫টি টেস্ট এবং মেলবোর্নে ঐতিহাসিক ১৫০তম টেস্ট খেলে অজি তারকাদের সরাসরি আইপিএলে যোগ দিতে হবে এবং সেটি শেষ করেই উড়াল দিতে হবে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। ২০২৩ সালেও একই ধরণের ঠাসা সূচির কারণে অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন চরম ক্লান্তিতে ফর্ম হারিয়ে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। তাই কামিন্স, স্টার্ক বা হ্যাজেলউডের মতো অল-ফরম্যাট বোলাররা আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে চুক্তি বজায় রেখে কীভাবে জাতীয় দলের ভারসাম্য রক্ষা করবেন, তা নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও বিসিসিআই-এর মাঝে এক ধরণের অদৃশ্য ‘টানাপোড়েন’ রয়েই যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সফরের সাদা বলের ক্রিকেটে এই পেস ত্রয়ীর অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়াকে তাদের বেঞ্চের গভীরতা পরখ করার বড় সুযোগ করে দিচ্ছে। মিচেল মার্শের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ সফরে ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন অলি পিকের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ প্রতিভা এবং লিয়াম স্কটের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফর্মাররা।

আইপিএল শেষ করে সরাসরি বাংলাদেশে দলের সাথে যোগ দেবেন ট্রাভিস হেড, কুপার কনোলি এবং জেভিয়ার বার্টলেটের মতো ইনফর্ম ক্রিকেটাররা। পেসারদের নিয়ে কোচের শেষ কথা, ‘আমাদের ফাস্ট বোলারদের বয়স বাড়ছে, এটা বাস্তব সত্য। তাই তাদের ধরে রাখতে এবং সেরা ছন্দে পেতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সফরে বিশ্রাম দেয়াটাই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক ও সঠিক সিদ্ধান্ত।’