টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এবার পানি কম ঘোলা হয়নি। মুস্তাফিজ ইস্যু এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। এরপর আইসিসি কঠোর অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। এছাড়া আইসিসি থেকে জরিমানা আর শাস্তির মুখেও ছিল বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের পাশে থেকে পুরোপুরি সার্পোট দিয়ে আইসসির উপর চাপে প্রয়োগ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি। শুধু বাংলাদেশের পাশে থেকেই নয়. ভারতের সাথে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় পাকিস্তান। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে আইসিসি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে আইসিসি। শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নিজেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও পাকিস্তানকে ম্যাচ খেলতে অনুরোধ জানান। পরে বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে বৈঠক করে আইসিসির প্রতিনিধি দল। ফলে শেষ পর্যন্ত আইসিসি কঠোর অবস্থান থেকে অনেকটাই নমনীয় হয় বাংলাদেশের প্রতি।
এদিকে আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব পাবে বাংলাদেশ। ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত নমনীয় অবস্থান নেয় আইসিসি। আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের (ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে) আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে। তবে এই আয়োজন আইসিসির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্ত সাপেক্ষে হবে। এ বিষয়ে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ জানান, ‘ভারতে বিশ্বকাপে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর অনেক ধরনের গুঞ্জন ছিল। কোনো আর্থিক শাস্তি না হওয়ায় আমরা স্বস্তি অনুভব করছি। আমাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারত, সেগুলো আরোপ করা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে। সেটি সরাসরি আর্থিকভাবে পুষিয়ে দেয়া না হলেও, ভবিষ্যতে কিছু ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দিয়ে বিষয়টি সামাল দেয়া যেতে পারে, যেমন নারী বিশ্বকাপ।’ ফারুক আহমেদ জানান, আগামী বছর বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। এছাড়া ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় আরও বেশি ম্যাচ বাংলাদেশে আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিসিবির আরেক সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেনও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘শুধু শাস্তিই নয়, আরও নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারত। কিন্তু লাহোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে আইসিসির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে।’ বাংলাদেশের সম্মান অর্জন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভি। গতকাল পাকিস্তানের পেশোয়ারে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। পিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমরা আইসিসি’র সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে কথা বলিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সম্মান নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।’ তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইসিসি-র কাছে যেসব দাবি রাখা হয়েছিল, তার সবই গৃহীত হয়েছে। নাকভি জানান, যখন আইসিসি বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা স্বীকার করে নিয়েছে এবং তাদের ওপর কোনো জরিমানা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তখনই পাকিস্তান সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি খেলার অনুমতি দিয়েছে।