আগামী মাসে ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ শ্যুটার রবিউল ইসলামের। তবে ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এই আসরে যোগ দিতে এখনও সরকারি আদেশের (জি ও) অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তিনি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে রবিউলের লড়াইয়ে নামার কথা। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম আন্তর্জাতিক মঞ্চ। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে গত ৪ জানুয়ারি থেকে এসএ গেমসের ক্যাম্পে নিবিড় অনুশীলনে রয়েছেন রবিউল।

ভারত সফর প্রসঙ্গে রবিউল বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত আমি জিও (সরকারি অনুমতি পত্র) পাইনি। নৌবাহিনী থেকে সার্ভিস জিও পেলেও সরকারি আদেশের জন্য এখনও আমাকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।’ ভিসা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হওয়ার সুবাদে তার ভারতীয় ভিসার প্রয়োজন নেই। কেবল সরকারি আদেশটি হাতে পেলেই তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসানও দ্রুত এই অনুমোদন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, গত সপ্তাহেই ইতিবাচক সুপারিশসহ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। শীঘ্রই অনুমতি পাওয়া যাবে বলেও জানান। সম্প্রতি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। ফলে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে তারা। নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রসঙ্গটি রবিউলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি দিক বিবেচনা করছি। প্রথমত, শ্যুটিং একটি ইনডোর গেম এবং এখানে দর্শক সংখ্যা থাকে সীমিত, যা ক্রিকেটের মতো বড় পরিসরের নয়। তাই এখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বললেই চলে। দ্বিতীয়ত, আমরা খেলাধুলার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।’

উল্লেখ্য, বিগত আসরগুলোতে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন (বিএসএসএফ) রাইফেল ও পিস্তল ইভেন্টে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বড় দল পাঠালেও এবার চিত্র ভিন্ন। রবিউলের সঙ্গে কেবল কোচ শারমিন আক্তারের যাওয়ার কথা রয়েছে। মাত্র দুই সদস্যের ছোট দল পাঠানোর কারণ জানতে বিএসএসএফ-এর সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।