খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে চলছে আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট। প্রাণবন্ত এ খেলায় দর্শকসারিও বেশ উৎফুল্ল। তবে ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এ মাঠটি বাণিজ্যিক মেলার জন্য ভাড়া দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বিভাগীয় সদর খুলনা মহানগরীতে নারীদের খেলাধুলার জন্য পৃথক কোনো মাঠ নেই। নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের পাশে বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে প্রশিক্ষণ নেন ও খেলাধুলা করেন নারীরা। বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতারও আয়োজন হয় মাঠটিতে। সূত্রে জানা গেছে, এই মাঠ এক মাসের জন্য ভাড়া দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। মেলা করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠ বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ উইভার্স প্রোডাক্টস এন্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স বিজনেস এসোসিয়েশন। মেলা, আগের প্রস্তুতি ও পরে নির্মাণ সামগ্রী অপসারণের জন্য কমপক্ষে দুই মাস মাঠে সবধরনের খেলাধুলা বন্ধ রাখতে হবে।
ক্রীড়া সংগঠকরা জানান, বর্তমানে আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এ ছাড়া মাঠটিতে শিশুদের এ্যাথলেট ক্যাম্প, ফুটবল ক্যাম্পসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু মেলার জন্য মাঠটি ভাড়া দেয়ায় সবধরনের আয়োজন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্কুলগুলোয় বার্ষিক পরীক্ষা শেষ পর্যায়ে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শিশু-কিশোরদের খেলার নানা আয়োজন থাকে। এইসময়ে মাঠটি বন্ধ করে দিলে সবধরনের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হবে বিশেষ করে মেয়েরা। বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিয়ন্ত্রণে। স¤প্রতি বাংলাদেশ উইভার্স প্রোডাক্টস এন্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স বিজনেস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মেলার জন্য মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়। ক্রীড়া পরিষদ ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এক মাস মেলা হলেও প্রস্তুতির জন্য আগে ১৫দিন এবং মালপত্র সরানোর জন্য পরে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত মাঠ বন্ধ থাকে।
বিশিষ্ট নারীনেত্রী সৈয়দা রেহেনা ঈসা বলেন, খুলনাতে নারীদের খেলাধুলা, সাঁতার ও কর্মমুখী শিক্ষার একটিমাত্র স্থান মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি কেনো ভাড়া দিতে হবে? কার স্বার্থে খুলনার নারী সমাজের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত দিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। অবিলম্বে বাণিজ্যিক মেলার আয়োজকদের সাথে তাদের চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন খুলনার এই নারীনেত্রী। খুলনা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলীম-উজ-জামান জানান, বর্তমানে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও আন্তঃবিভাগীয় টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু মাঠ ভাড়া দেওয়ায় বিকল্প ভেন্যু খুঁজতে হচ্ছে। বর্তমানে জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কোনো কমিটি নেই। আগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক সিলভী হারুন বলেন, খুলনায় মেয়েদের খেলার জন্য নিরাপদ জায়গা নেই। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মাঠ ভাড়া দেওয়া হলে শেষ সুযোগটিও নষ্ট হবে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক আওলাদ হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, খেলার মাঠে সবধরনের মেলা বন্ধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করছি। রাজনৈতিক দলের নেতা, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারসহ সবাই এই আয়োজন বন্ধের বিষয়ে একমত ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী আবার মেলা করতে চাইছে। যে কোনো মূল্যে এই মেলা বন্ধ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।