নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্র যেতে পারবে না ইরান। যার ফলশ্রুতিতে নিজেদের ম্যাচ ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় সরিয়ে নিতে ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে ইরান। বিশ্বকাপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় আয়োজনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেন। এর জবাবে মেহদি তাজ বলেন, ‘যখন সরাসরি বলা হচ্ছে ইরানের জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তাই তারা বিকল্প হিসেবে মেক্সিকোয় ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করছেন। আগামী বিশ্বকাপ আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো- এই তিন দেশে যৌথভাবে। সূচি অনুযায়ী, ইরানের দুটি গ্রুপ ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে তারা মনে করছে।
এদিকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসর জন বলেন, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনই এবং এখন পর্যন্ত ইরান জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নেবে। যদি ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ায়, তবে আধুনিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি হবে একটি বড় ঘটনা। সে ক্ষেত্রে আয়োজকদের দ্রুত বিকল্প দল খুঁজে বের করতে হবে, যা পুরো টুর্নামেন্টের পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।