প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মঞ্চে খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি, বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতার ঘাটতি আর শারীরিক সক্ষমতায় এশিয়ার সেরা দলগুলোর চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও প্রথম দুই ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ভালো লড়াই উপহার দিয়েছিল পিটার বাটলারের শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটা ঋতুপর্ণা-মারিয়াদের জন্য ছিল আসরে অন্তত একটা জয় তুলে নেয়ার উপলক্ষ। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে বড় পরাজয়ের দেখা পেল বাংলাদেশের মেয়েরা। গতকাল সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধের শুরুতে গোল হজম করার পর দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলে। সময় যত গড়িয়েছে উজবেকিস্তানের মেয়েদের শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে আর কুলিয়ে উঠতে পারেননি আফঈদা-ঋতুপর্ণারা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৩ গোল হজম করে বাংলাদেশের মেয়েরা।
উজবেকিস্তানের বড় জয়ের নায়ক দিয়োরাখন খাবিবুল্লায়েভা। হ্যাটট্রিক করেছেন উজবেক নম্বর টেন। বাকি গোলটি নিলুফার কুদরাতোভার। এদিন ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের অগোছালো ফুটবলের সুযোগ নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণ শানাতে থাকে উজবেকিস্তান। ফলও পায়। দশম মিনিটে খাবিবুল্লায়েভার গোলে এগিয়ে যায় উজবেকরা। গোল খাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। মুহুর্মুহু আক্রমণ শানাতে থাকেন ঋতুপর্ণা-আনিকারা। কিন্তু উজবেক রক্ষণদূর্গের সামনে বারবার পরাস্ত হতে হয়েছে। কখনো শট নিতে দেরি, কখনো আবার জায়গামতো খেলোয়াড় উপস্থিত না থাকায় হতাশায় ডুবতে হয়েছে বাঘিনীদের। প্রতিক্রমণে মধ্য এশিয়ার দেশটির মেয়েরাও ত্রাস ছড়াচ্ছিল।বাংলাদেশ এই অর্ধে একাধিক সুযোগ নষ্ট করে সমতায় ফিরতে পারেনি। এদিনও ঋতুপর্ণার দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক দারুণভাবে প্রতিহত করেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের মেয়েরা দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। উজবেকদের গতির সঙ্গে আর পেরে উঠছিলেন না তারা। রক্ষণভাগের ভুলে একের পর এক গোল হজম করে বড় হারের মুখ দেখতে হয় বাটলারের দলকে।ম্যাচের ৬২ ও ৬৬ মিনিটে দুই গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন খাবিবুল্লায়েভা। আর ৮৮ মিনিটে বাকি গোলটি করেন কুদরাতোভা। মাঝে উজবেকিস্তানের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল করেন রেফারি।
গ্রুপ বি'তে তিন ম্যাচে ১১ গোল হজম করে বিদায় নিলো বাংলাদেশ। তিনটি ম্যাচই হেরে যাওয়ায় কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। এই গ্রুপ থেকে চীন ৯ পয়েন্ট এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পাওয়া উজবেকিস্তানের সামনেও সুযোগ আছে দুই তৃতীয় সেরা দলের একটি হিসেবে পরের পর্বে ওঠার।