নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে টানা ৫ম হারের স্বাদ দিলো ঢাকা ক্যাপিটালস। হারালো ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। নোয়াখালীর করা ১৩৩ রান তাড়া করতে নেমে ১৪.১ ওভারে (৩৫ বল হাতে রেখে) জয় তুলে নিলো ঢাকা। ৫০ বলে ৯০ রান করে অপরাজিত থাকলেন নাসির হোসেন। টানা তিন ম্যাচ হারার পর নাসিরের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জয়ের মুখ দেখল ঢাকা ক্যাপিটালস। ১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দারুণ বিপদে পড়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। শূন্য রানে রহমানুল্লাহ গুরবাজ আউট হয়ে যান। দলীয় ১৪ রানের মাথায় ফিরে যান আবদুল্লাহ আল মামুন। এরপরই মাঠে নেমে ঝড় তুলতে শুরু করেন নাসির হোসেন। ইরফান শুককুরকে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। যেখানে শুককুর মাত্র ১২ রান করে আউট হয়ে যান। ৭৩ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট পড়ার পর বাকি কাজ ইমাদ ওয়াসিমকে নিয়ে সেরে নেন নাসির হোসেন। ৪র্থ উইকেটে জুটি গড়েন ৬১ রানের। ফলে কারণে ১৪.১ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস। ৬১ রানে গুটিয়ে যাওয়া নোয়াখালী এবারও তেমন কিছুর শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল। ৪০ রানে হারিয়েছিল তারা ৫ উইকেট। পরে হায়দার আলি ও মোহাম্মদ নাবির লড়াইয়ে তারা ১৩৩ পর্যন্ত যেতে পারে। কিন্তু সেই স্কোর মামুলি হয়ে ওঠে নাসিরের রুদ্র রূপের সামনে। বল হাতে একটি উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে অপরাজিত থাকেন তিনি ১৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ বলে ৯০ রানে। ইনিংসটির পথে ২১ বলে তিনি পা রাখেন ফিফটিতে, তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের যা সবচেয়ে দ্রুততম। এবারের বিপিএলে আগের দ্রুততম ফিফটি ছিল কাইল মেয়ার্সের (২৩ বলে)। সেখানেই না থেমে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। প্রতিপক্ষ আর কিছু রান করলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও হয়তো পেতে পারতেন! টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সেরা ছিল ৮০। ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি ১৩ বছর আগের বিপিএলে! নাসিরের ইনিংসটি আরও বিশেষ কিছু হয়ে উঠছে ঢাকার রান তাড়ায় শুরুর ধাক্কায়। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই হাসান মাহমুদের শিকার হন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ (০)। ক্রিজে যান তখন নাসির। তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন। নাসিরের পাল্টা আক্রমণ সেখান থেকেই। মোহাম্মাদ নাবিকে চার মারেন তিনি চারটি। মাজ সাদাকাতের ওভারে তিন চার এক ছক্কায় রান নেন ১৮। এরপর রেজাউর রহমান রাজার ওভারে তিন বাউন্ডারিতে পঞ্চাশ পেরিয়ে যান তিনি পাওয়ার প্লেতেই। প্রথম তিন ওভারে ঢাকার রান ছিল ২ উইকেটে ১৪। নাসিরের বাউন্ডারির জোয়ারে পরের তিন ওভারে রান আসে ৫০! আরেক প্রান্তে ইরফান শুক্কুর তখন কেবল দর্শক। জুটির রান যখন ৫০ হলো, তার অবদান সেখানে মোটে ৬! জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসানের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া ইরফান আউট হয়ে যান ১২ রান করে। ঢাকার তাতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। স্ট্রোকের ভেলায় ইমাদ ওয়াসিমকে নিয়ে জয়ের তীরে পৌঁছে যান নাসির। অবিচ্ছিন্ন এই জুটিতে ৪০ বলে আসে ৬৪ রান। ম্যাচের প্রথম ভাগে দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে ইমাদ অপরাজিত থাকেন ১৬ বলে ২৯ রানে। ম্যাচের শেষের মতো ঢাকার শুরুটাও ছিল দাপুটে। টস জিতে বোলিংয়ে নেমে তিনটি উইকেট তুলে নেয় তারা পাওয়ার প্লেতেই। ইমাদ ওয়াসিমের বলে কাভারে আলতো করে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার (১)। হাবিবুর রহমান সোহানকে ফেরান তাসকিন আহমেদ, মুনিম শাহরিয়ারকে বোল্ড করে দেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। ৩ রানে জীবন পেয়ে মাহিদুল ইসাম অঙ্কন ৪ রানেই আউট হয়েযান আফগান পেসার জিয়াউর রহমানের বলে। তখনও পর্যন্ত রান বাড়ানোর কাজটা করছিলেন মূলত মাজ সাদাকাত। পাকিস্তানি এই ক্রিকেটারকে (১৯ বলে ২৪) যখন ফেরালেন নাসির, নোয়াখালী তখন ইনিংসের অর্ধেক হারিয়ে ফেলে কেবল ৪০ রানে। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন হায়দার আলি ও মোহাম্মাদ নাবি। শুরুতে সময় নিয়ে বিপর্যয় ঠেকান দু’জন, পরের সময়টায় দুজনের ব্যাটেই বাড়ে রানের গতি। দশম ওভারে উইকেটে সঙ্গী হন দুজন, বন্ধন ছিন্ন হয় শেষ ওভারে। ততক্ষণে জুটিতে ওঠে ৬৪ বলে ৯০ রান। ৩৬ বলে ৪৭ রান করে আউট হন হায়দার, ৩৩ বলে ৪২ রানে অপরাজিত রয়ে যান নাবি। তবে দলের স্কোর তাতে একটু ভদ্রস্থই হয় শুধু। লড়াই তারা করতে পারেনি। নাসিরের ব্যাটে ঢাকা জিতে যায় ৩৫ বল বাকি রেখে। ৫ ম্যাচ শেষে ২ জয়ে এখন ঢাকার পয়েন্ট ৪। অন্যদিকে একটি ম্যাচও না জেতা নোয়াখালীর পয়েন্ট শূন্য এবং তারা রয়েছে টেবিলের একেবারে তলানীতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৩৩/৬ (সোহান ৬, সৌম্য ১, সাদাকাত ২৪, মুনিম ২, মাহিদুল ৪, নাবি ৪২*, হায়দার ৪৭, হাশিম ০*; ইমাদ ৪-০-১৬-১, তাসকিন ৪-০-২৮-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩০-১, জিয়াউর ৪-১-২৬-১, নাসির ৩-০-২৪-১, আল মামুন ১-০-৬-১)।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৪.১ ওভারে ১৩৪/৩ (গুরবাজ ০, আল মামুন ১, নাসির ৯০*, ইরফান ১২, ইমাদ ২৯*; হাসান ৩-০-১৭-২, নাবি ৩-০-৩১-০, সাদাকাত ১-০-১৮-০, রেজাউর ২.১-০-২৭-০, হাশিম ২-০-৮-০, জাহির ৩-০-৩২-১)।
ফল: ঢাকা ক্যাপিটালস ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাসির হোসেন।