দীর্ঘদিন চোটে থাকার পর মাত্র কদিন হলো মাঠে ফিরেছেন আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শুরুর একাদশে তাকে রাখেন কোচ মিকেল আরতেতা। আর প্রথম থেকেই মাঠে নামার সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগান ২৮ বছর বয়সি জেসুস। জোড়া গোল করে জিতিয়েছেন আর্সেনালকে। সান সিরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ৩-১ গোল ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি আর্সেনালের টানা সপ্তম জয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্সেনাল। প্রথম মিনিটেই ইন্টারের গোলবার বরাবর দুটি শট নেয় তারা। আর চতুর্থ মিনিটে নেয় প্রথম অনটার্গেট শট। কিন্তু বুকায়ো সাকার নেয়া শট দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন ইন্টারের গোলরক্ষক ইয়ান সমের। কিন্তু ১০তম মিনিটে দলকে আর রক্ষা করতে পারেননি তিনি। এ সময় আর্সেনালকে এগিয়ে নেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ১৮তম মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিক ইন্টার মিলান। দলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন পেতার সুচিচ। বিরতিতে যাওয়ার আগে আরও একটি গোল করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে দ্বিতীয়বারের মতো লিড এনে দেন জেসুস। বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ডের হেড করা বল হেডে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ফলে ২-১ গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে আর্সেনাল। ৭৫তম মিনিটে জেসুসের বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর গিওকারেস ৮৪তম মিনিটে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। ফলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। এই জয়ে টানা সাত ম্যাচ জিতে সর্বোচ্চ ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই অবস্থান করছে আর্সেনাল। সমান ম্যাচে মাত্র ১২ পয়েন্ট নিয়ে ১২তম স্থানে রয়েছে ইন্টার মিলান। এদিকে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৭ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১৫ পয়েন্ট। আর এক ম্যাচ কম খেলে রিয়ালের সমান পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের শিকার হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। একই রাতে শিরোপাধারী প্যারিস সেইন্ট জার্মেইও (পিএসজি) হোঁচট খেয়েছে। এদিকে পর্তুগালে শেষদিকে গোল হজম করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি হেরে যাওয়ায় আগামী সপ্তাহে শেষ ষোলোতে সরাসরি ওঠা নিশ্চিত করতে তাদের অপেক্ষা আরো বাড়লো। স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করেন লুইস সুয়ারেজ। ৭৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা কাভিচা কাভারাটখেলিয়া পিএসজিকে সমতায় ফেরালেও ৯০ মিনিটে হেডে জয়সূচক গোলটি করেন সুয়ারেজ। এই হারে পিএসজি নেমে গেছে পাঁচ নম্বরে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা নিউক্যাসলের মুখোমুখি হবে। শীর্ষ আট দল সরাসরি শেষ ষোলোতে উঠবে, আর নবম থেকে ২৪তম দলকে খেলতে হবে দুই লেগের প্লে-অফ।

এদিকে নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ আক্রমণাত্মক ঝলক দেখিয়ে সাম্প্রতিক হতাশা ভুলতে সাহায্য করেছে সমর্থকদের। ঘরের মাঠে রিয়াল ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফরাসি ক্লাব মোনাকোকে। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুটি গোল করেন। গত সপ্তাহে লেভান্তের বিপক্ষে লা লিগায় ঘরের মাঠে জয়ের ম্যাচে নিজের সমর্থকদের কাছেই দুয়ো পাওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একটি দুর্দান্ত গোল করেছেন। এর ফলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা সপ্তম স্থান থেকে উঠে এসে অপ্রতিরোধ্য আর্সেনালের ঠিক পেছনে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছায়। ইতালিতে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে আর্সেনালের জয় উদযাপনের রাতে গ্যাব্রিয়েল জেসুস প্রথমার্ধে পোস্টেও কাছ থেকে দুটি গোল করে গানারদের শীর্ষ আট নিশ্চিত করেন। ২৮ বছর বয়সী জেসুস বলেন, ‘এটা স্বপ্নের রাত। আমি সব সময় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। ছোটবেলায় অনেক সিরি-আ ম্যাচ দেখতাম। তাই এই স্টেডিয়ামে এসে গোল করতে পারায় চোখে পানি চলে আসছে, কারণ আমি সব সময়ই এখানে খেলার স্বপ্ন দেখেছি।’ ইতালিতে আর্সেনালের আনন্দের বিপরীতে নরওয়েতে প্রিমিয়ার লিগের পরাশক্তি ম্যান সিটির জন্য ছিল হতাশা। প্রথমার্ধে কাসপার হগের জোড়া গোল ও দ্বিতীয়ার্ধে ইয়েন্স পেটার হাউগের গোল উচ্ছ্বসিত অ্যাস্পমাইরা স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক অঘটন ঘটায়। হাউগের গোলের পর রায়ান চেরকি একটি গোল শোধ দিলেও, দুটি হলুদ কার্ডে রড্রির মাঠ ত্যাগ সিটিকে পুরোপুরি ছন্নছাড়া করে দেয় এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরার কঠিন বাস্তবতায় ফেলে। এটি নরওয়েজিয়ান ক্লাবটির গ্রুপ পর্বে প্রথম জয়, যা তাদের প্লে-অফে ওঠার আশা জাগিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে চাপের মুখে থাকা টটেনহ্যাম কোচ থমাস ফ্রাঙ্ক কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পার্সরা নকআউট পর্বের টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।