ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার এক পর্যায়ে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন—এমন তথ্য জানিয়েছেন তার বাবা ও এজেন্ট, নেইমার দা সিলভা সান্তোস সিনিয়র। ধারাবাহিক চোট ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মানসিক চাপ থেকেই এমন চিন্তা মাথায় আসে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে মেনিস্কাসের চোটে ভুগছেন নেইমার। গত মৌসুমে সান্তোসের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে নামলেও পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি। গত ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

অস্ত্রোপচারের আগের মানসিক অবস্থা নিয়ে ইউটিউব সাক্ষাৎকারে নেইমার সিনিয়র বলেন, চোটের খবর প্রকাশ হওয়ার পর ছেলে ভেঙে পড়েছিলেন। বাসায় গিয়ে কথা বলার সময় নেইমার জানান, তিনি আর আগের মতো পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না এবং অস্ত্রোপচারের পরও সুস্থ হওয়া নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

নেইমার সিনিয়রের ভাষায়, তখন ছেলের চোখে গভীর হতাশা দেখা যাচ্ছিল। তিনি নেইমারকে পরামর্শ দেন দুই বিষয়ে মনোযোগ দিতে—চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে সমালোচকদের জবাব দেওয়া এবং বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ধরে রাখা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলতে গিয়ে নেইমার তার এসিএল ও মেনিস্কাসে গুরুতর চোট পান। এরপর থেকেই ফিটনেস নিয়ে লড়াই করছেন তিনি।

নেইমার সিনিয়র বলেন, অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিলে সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো সময়টা তিনি ছেলের পাশে থাকবেন—এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার মতে, এই সমর্থনই নেইমারকে মানসিকভাবে শক্ত হতে সাহায্য করেছে।

পরদিনই নেইমারের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি আবার অনুশীলন শুরু করেন, দুই পা দিয়েই শট নেন এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দেন। মাঠে নেমে গোল করার পর তিনি বাবাকে জানান, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তোসে ফিরে ব্রাজিলের সিরি আ লিগে মৌসুমের অর্ধেক সময় খেলতে পেরেছিলেন নেইমার। সেখানে তিনি আটটি গোল করেন, যার চারটি আসে মৌসুমের শেষ দিকে। এই গোলগুলোই দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ মৌসুম শুরুর আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই তারকা ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন এবং তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।