অবশেষে ২০২৬ সালে প্রথমবার গোলের দেখা পেলেন নেইমার জুনিয়র, সেটাও একটি নয় দুটি। তার জোড়া গোলে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ ব্রাসিলেইরো সিরি আ–তে চতুর্থ রাউন্ডে এসে স্বস্তির জয়ের মুখ দেখল সান্তোস। এই জয়ে আপাতত বরখাস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেলেন সান্তোসের কোচ হুয়ান পাবলো ভোজভোদাও। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে ভাস্কো দা গামাকে ২–১ গোলে হারিয়েছে সান্তোস। চার ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম সান্তোসের লিগে এটা প্রথম জয়। দলকে জেতানোর পর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাবও দিয়েছেন চোট কাটিয়ে ফেরা এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা নেইমার ২৫ মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন নেইমার। দারুণ ফিনিশিংয়ে করা এই গোলের পর গ্যালারির উদ্দেশে চুপ থাকার ইশারা করেন তিনি এবং পরবর্তী সময় কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের স্টাইলে নেচে গোলটি উদযাপন করেন। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি সান্তোস, বিরতির আগেই সমতা ফেরায় ভাস্কো দা গামা। ৪৩ মিনিটে সফরকারীদের হয়ে গোলটি করেন কাউন বারোস। তাতে ১-১ এ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল। কিন্তু ৬১ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করে দলকে জয় এনে দেন নেইমার। চলতি বছরের শুরুতে হাঁটুর অস্ত্রোপচার করান নেইমার। দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময়ের পুনর্বাসন শেষ করে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে ফেরেন তিনি। ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে গোল না পেলেও একটি অ্যাসিস্টে দলের জয়ে অবদান রাখেন। সেদিন নেইমাররা জিতেছিল ৬–০ গোলে। তবে পরের ম্যাচেই মুদ্রার উল্টো দেখেন নেইমার। নভোরিজোন্তিনোর কাছে ২–১ গোলে হেরে পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় নেয় সান্তোস। এর মধ্যে নেইমারকে ঘিরে শোনা যায় নানা গুঞ্জনও। আসন্ন বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিল দলে নেইমারকে বিবেচনা না করার বিষয়টিও সামনে আসে। তবে সব সমালোচনা ও অবহেলার জবাব নেইমার দিলেন গোল করে। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ক্রীড়া চ্যানেল স্পোরটিভিকে নেইমার বলেন, ‘গত সপ্তাহে তারা বলছিল, আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়। আজ আমি দুই গোল করেছি এবং এটাই দরকার। এটাই ফুটবল। একদিন আপনি খারাপ, বা অবসর নেওয়ার মতো খেলোয়াড়। পরের দিনই মানুষ আবার বলবে, আপনাকে বিশ্বকাপে যেতেই হবে।’ নেইমার আরও বলেন, ‘আমি নিজের সর্বোচ্চটা নিবেদন করছি এবং সর্বোচ্চ ফিটনেসে পৌঁছাতে কাজ করে চলেছি। এটি ছিল এবছরে আমার তৃতীয় ম্যাচ এবং দ্বিতীয়বার পুরো ৯০ মিনিট খেলা। শেষদিকে কিছুটা পায়ে টান ধরেছিল, তবে এটি প্রক্রিয়ারই অংশ।’ ভিনিসিয়ুসের মতো উদ্যাপন নিয়ে নেইমার বলেছেন, ‘আমার উদ্যাপনটা ছিল ভিনির জন্য। পর্তুগালে যখন সে বর্ণবাদের শিকার হয়েছিল, তখন আমি তাকে বলেছিলাম, “আবার গোল করলে একইভাবে উদ্যাপন করবে। কারণ, আমিও ঠিক একইভাবে উদ্যাপন করব।’