প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি। সাফজয়ী এই নারী দলকে বরণ করে নিতে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় শিরোপাজয়ী নারী ফুটসাল দল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। সেখান থেকে তাদের জন্য বিশেষ ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে বাসে করে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে যাওয়া হয় হাতিরঝিলে। রাতে হাতিরঝিলে এক জমকালো গ্র্যান্ড রিসিপশন বা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং ক্রীড়া সচিব। আনুষ্ঠানিকতা শেষে জলসিড়িতে চ্যাম্পিয়ন দলের সম্মানে এক বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর ফুটবলাররা গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে অবস্থান করেন। বাংলাদেশ ফুটসাল দলের ম্যানেজার ও ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান বলেছেন, পুরুষ দল খেলা শেষ হওয়ার এক দিন পরই দেশে ফিরেছে। নারী দল ব্যাংককে অতিরিক্ত দুই দিন থাকতে হয়েছে। শিরোপা জয়ের জন্য ফুটবলারদের বোনাস ও ব্যাংককে ঘোরাঘুরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়। তখন ফুটবলার সানজিদা আক্তারের স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে ছাদ খোলা বাসের ব্যবস্থা হয়েছিল। ২০২৪ সালে ঋতুপর্ণারা মিয়ানমারকে হারিয়ে এশিয়া কাপে উঠার পর গভীর রাতে হাতিরঝিলে সংবর্ধনা দিয়েছিল বাফুফে। আলো ঝলমলে পরিবেশে অনুষ্ঠান করলেও ফুটবলাররা কোনো আর্থিক প্রণোদনা পাননি। এমনকি ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ফেডারেশনের ঘোষিত দেড় কোটি টাকাও তারা এখনো পাননি।

উল্লেখ্য লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশের এই টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য ছিল বাংলাদেশ। ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ ড্রয়ে মোট ১৬ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রানার্সআপ হয়েছে ভুটান।