নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঋতুপর্ণা চাকমাদের রাজশাহী স্টারস। অবশ্য ঋতুপর্ণা, আফিদাদের নিয়ে গড়া রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দোরগোড়ায় ছিল। গতকাল শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে ড্র করলেই হতো। আর্মিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঋতুপর্ণারা। ১০ ম্যাচের দশটিতেই জিতে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী। তাদের সঙ্গে ফরাশগঞ্জ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে তিন দল শিরোপার লড়াইয়ে ছিল। গতকাল সেনাবাহিনী রাজশাহীকে হারালে তাদের পয়েন্ট রাজশাহীর সমান ২৭ হতো। ফরাশগঞ্জ গতকাল শেষ ম্যাচ জিতলে তাদেরও দাঁড়াত ২৭ পয়েন্ট। তখন তিন দলের মধ্যে প্লে-অফ অনুষ্ঠিত হতো। রাজশাহী জয় পাওয়ায় আর কোনো জটিল সমীকরণে যেতে হয়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লিগে ধারাবাহিক পারফর্ম করেছে। ফরাশগঞ্জ ছাড়া অন্য কোনো দলের সঙ্গে হারেনি। রাজশাহীর বিপক্ষে ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার আভাস ছিল। প্রথমার্ধে রাজশাহীকে গোল করতে দেয়নি সেনাবাহিনী। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য তিন গোল করে রাজশাহী ম্যাচ জিতে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যে ডান প্রান্ত থেকে ক্রসে একেবারে ফাঁকা জায়গায় বল পান আলপি আক্তার। প্লেসিংয়ে বল জালে পাঠাতে কোনো সমস্যা হয়নি সাফ অ-১৯ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলাদাতা ও টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলারের। ১৫ মিনিটে শাহেদা আক্তার রিপা দারুণ গোল করেন। বাম প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণা চাকমা ক্রস করেন ডান প্রান্তে। উড়ন্ত বলেই রিপা কোনাকুনি জোরালো শটে গোল করেন। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে নিজেই গোল করেন ঋতুপর্ণা। সেনাবাহিনী গোল পরিশোধের চেষ্টা করেছিল। তবে রাজশাহী স্টারসের জাতীয় দলের গোলরক্ষক রুপ্না চাকমাকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। সেনাবাহিনীর গোলরক্ষক মিলি আক্তারও জাতীয় দলের স্কোয়াডে থাকেন। তিনি কয়েকটি দারুণ সেভ করলেও রাজশাহী ফরোয়ার্ডদের দক্ষতা ও নিজ দলের ডিফেন্ডারদের ভুলে তিন গোল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স নতুন দল গড়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নারী ফুটবল লিগেও ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষক দল নাবিল গ্রুপের অর্থায়নে রাজশাহী স্টারস করা হয়েছে। জাতীয় দলের একঝাঁক তারকা এবং নেপালের জাতীয় ফুটবলার নিয়ে রাজশাহী প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে। প্রায় কাছাকাছি শক্তির ফরাশগঞ্জকে হারানোর পরই রাজশাহীর শিরোপা প্রায় নিশ্চিত ছিল। গতকাল সেনাবাহিনীকে হারিয়ে দশে দশ করেই চ্যাম্পিয়ন উদযাপন করল রাজশাহী। চ্যাম্পিয়ন হয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের কথা বলবÑ সবাই খুব কমিটেড ছিল, খুব ডিটারমাইন্ড ছিল চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা নেওয়ার জন্য। আমরা সেটার জন্য পরিশ্রমও করেছি এবং শেষ পর্যন্ত পেরেছি।’ এবারের নারী লিগে অনেক ম্যাচই দশটির বেশি গোল হয়েছে। এমনকি বিশটিরও বেশি গোল হয়েছে একাধিক ম্যাচে। সর্বোচ্চ ৩২ গোল হয়েছে এক ম্যাচে। টেবিলে সবার নিচে থাকা কাচারীপাড়া ১১৭ গোল হজম করেছে। ম্যাচ প্রতি তারা গড়ে ১৩ গোল খেয়েছে। রাজশাহী দলের অন্যতম খেলোয়াড় জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা। ক্লাব পর্যায়ে সাফল্য পেয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিগত লিগের থেকে এই লিগটা খুবই কম্পিটিটিভ এবং আমাদের লক্ষ্য ছিল ক্লাব এবং ক্লাবেরও লক্ষ্য ছিল এই শিরোপাটা ধরে রাখার। আমরা ওইটা ফুলফিল করতে পেরেছি এবং আমরা হ্যাপি।’ ভুটানের লিগে ঋতুপর্ণারা যখন খেলতেন, তখন বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন। সেই লিগে নাকি বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণও খেলতে পারেন। রাজশাহী স্টারস ১০ ম্যাচে ৯০ গোল করেছে। ম্যাচ প্রতি ৯ গোল। ফলে লিগের মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। ঋতুপর্ণা অবশ্য ভুটানের লিগের সাথে তুলনা করে বলেন, ‘ভুটানের লিগ আসলে আপনারা দেখছেনই, তো বাংলাদেশের লিগেও তো ২৪-২৫টা গোল হচ্ছে। ভুটানে এমনটা হয়েছে এমন না যে ভুটান লিগ নিচু স্তরের লিগ। ভুটান লিগটাও ভালো একটা লিগ।’ আফিদা ভুটান লিগে খেলেননি। তবে তিনি এবারের লিগকে গত কয়েকটির চেয়ে এগিয়ে রেখে বলেন, ‘লিগটা গত তিন বছরের থেকে এ বছর অনেক কম্পিটিটিভ হয়েছে। কারণ প্রত্যেকবার কী হতো ন্যাশনাল প্লেয়াররা একটা টিমেই হয়তো চলে যেত বা দুই একটা টিমে। এবার হচ্ছে ন্যাশনাল টিমের প্লেয়াররা কম-বেশি সব টিমে ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে। এজন্য লিগটাও কম্পিটিটিভ হয়েছে।’ আফিদার সঙ্গে একমত পোষণ করে রাজশাহীর অধিনায়ক শিউলি বলেন, ‘ফরাশগঞ্জ এবং আর্মিÑ এই দুইটা টিমই আমার কাছে মনে হয়েছে যে খুব টাফ ছিল। ফুটবলটা তো আনপ্রেডিক্টেবল, সো যত ভালো টিমই হোক আসলে রুখে দেওয়া পসিবল যেকোনো টিমের কাছেই। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই মাঠে নেমেছি। আমরা জানি আর্মি একটা ব্যালেন্সড টিম, খুব ভালো টিম, আমাদের ন্যাশনাল টিমের অনেক প্লেয়ার ওখানে আছে। সো আমরা ওইটা মাথায় রেখেই খেলেছি যে রেজাল্ট যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে।’
ফুটবল
সহজ জয়েই চ্যাম্পিয়ন ঋতুপর্ণাদের রাজশাহী
নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঋতুপর্ণা চাকমাদের রাজশাহী স্টারস। অবশ্য ঋতুপর্ণা, আফিদাদের নিয়ে গড়া রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দোরগোড়ায় ছিল। গতকাল শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে ড্র করলেই হতো।
Printed Edition