লামিন ইয়ামালের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকে ভর করে লা লিগায় বার্সেলোনা ভিয়ারিয়ালকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে। এই জয়ে লা লিগার শীর্ষে থাকা কাতালানরা চার পয়েন্টে এগিয়ে গেছে। স্পেন জাতীয় দলের উইঙ্গার ইয়ামাাল প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন। ক্যাম্প ন্যুতে অতিথিদের হয়ে পেপে গুয়ে একটি গোল শোধ করলেও কার্যত তা কোন কাজে আসেনি। হানসি ফ্লিকের দলের হয়ে ইয়ামাল তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ম্যাচের শেষভাগে রবার্ট লিওয়ানদোস্কি সহজ ট্যাপ-ইন থেকে চতুর্থ গোলটি করেন। ফলে বার্সা তাদের লিগ শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের থেকে চার পয়েন্ট এগিয়ে গেছে। রিয়াল সোমবার গেতাফের মুখোমুখি হবে। চতুর্থ স্থানে থাকা ভিয়ারিয়াল বার্সেলোনার থেকে ১৩ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে তলানির দল রিয়াল ওভিয়েডোকে ১-০ গোলে হারিয়ে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এই মুহূর্তে এ্যাথলেটিকো ও ভিয়ারিয়ালের পয়েন্ট সমান। ৯৪তম মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের গোলে দিয়েগো সিমিওনের দলের জয় নিশ্চিত হয়। মৌসুমের শুরুতে কয়েক সপ্তাহ কুঁচকির চোটে ভুগে ফর্ম হারানো ইয়ামাল এই ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত। ম্যাচ শেষে ইয়ামাল বলেন, ‘সবকিছুর মিশ্রণ ছিল। আমি নিজেকে ভালো অনুভব করছিলাম না, কুঁচকির সমস্যাও ছিল। হাসিমুখে খেলতে পারছিলাম না। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অনেক ভালো লাগছে। আবার আনন্দ নিয়ে খেলছি।’ ১৮ বছর ২৩০ দিন বয়সে ইয়ামাল ২১ শতকে লা লিগায় হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়লেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিযয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১৮ যা গত মৌসুমের সমান। এই মুহূর্তে তিনি বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতা। কোচ হান্সি ফ্লিক বলেন, মৌসুমের শুরুতে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসে কিছু ঘাটতি ছিল, “প্রতিপক্ষ তার বিপক্ষে দুই-তিনজন খেলোয়াড় রাখত। ওয়ার-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। কিন্তু যখন সে উপভোগ করে খেলে, তখন সেটা আমাদের জন্যও নিখুঁত।’ ২৮ মিনিটে ফারমিন লোপেজ বল কেড়ে নিয়ে ইয়ামালের দিকে বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে কার্লিং শটে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। নয় মিনিট পর ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে একক প্রচেষ্টায় ব্যবধান দ্বিগুন করেন এই স্প্যানিশ তারকা। ৪৯ মিনিটে পোস্টের কাছ থেকে গোল শোধ করেন গুয়ে। ৬৯ মিনিটে বদলি পেড্রির নিখুঁত পাস থেকে ইয়ামাল ক্লিনিকাল ফিনিশে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ভিয়ারিয়াল কোচ মার্সেলিনো গার্সিয়া তোরাল বলেন, ‘এমন উজ্জ্বল খেলোয়াড়কে থামানো কঠিন। তৃতীয় গোলটিতে আমাদের রক্ষণ ভয়াবহ ছিল, আমরা তাকে যেন মহাসড়ক দিয়ে দৌড়নোর সুযোগ কওে দিয়েছি।” লিওয়ানদোস্কির গোলটি আসে পেড্রি ও জুলেস কুন্ডের চমৎকার সমন্বয়ে। এখন বার্সেলোনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, কোপা দেল রে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধান ঘোচানো। ফ্লিক বলেন, ‘এ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে চার গোল করা সহজ নয়, তবে আমরা লড়ব এবং কখনও হার মানব না।