দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা সাফজয়ী তারকা নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার মুকুটে যুক্ত হলো সাফল্যের নতুন পালক। ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অনুপ্রেরণা জোগানোর স্বীকতি হিসেবে পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২৫’। মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত বেগম রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার হাতে পদক তুলে দেন। নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকতি হিসেবে এ বছর ঋতুপর্ণাসহ চার নারীকে দেওয়া হয়েছে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। গতকাল বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা আয়োজনে দিনটি পালন করছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল পরপর দুইবার-২০২২ ও ২০২৪ সালে-সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। এশিয়ান কাপের মূল পর্বেও প্রথমবার জায়গা করে নেয় দলটি। এই সাফল্যের ধারায় রাঙ্গামাটির মেয়ে ঋতুপর্ণার অবদান অসাধারণ। এর আগে জাতীয় নারী ফুটবল দলকে দেওয়া হয় একুশে পদক, এবার ব্যক্তিগত স্বীকৃতি হিসেবে রোকেয়া পদক পেলেন তিনি। ২০২১ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার পর থেকে ঋতুপর্ণা এখন পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন। ২০২৪ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নির্বাচিত হন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। এ বছর মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বাছাইয়ে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেন তিনি। তবে ঋতুপর্ণার সাফল্যের পথ ছিল কঠিনতর। তার মা ভূজোপতি চাকমা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছেন।
২০১৫ সালে বাবা বরজ বাঁশি চাকমার মৃত্যু হয়, তখন তার বয়স মাত্র ১১। ২০২২ সালের জুনে বিদ্যুৎস্পর্শে মর্মান্তিকভাবে মারা যান তার ভাই পার্বণ চাকমা। একের পর এক স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েও মাঠে নিজের সেরাটা দিয়েছেন ঋতুপর্ণা-দর্শক মাতিয়েছেন, দেশের গর্ব বাড়িয়েছেন। তার এই আলো ছড়ানোর পথচলার স্বীকৃতিই বেগম রোকেয়া পদক। রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত ঋতুপর্ণা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘জীবনের প্রতিটা পুরস্কার আমার জন্য অনুপ্রেরণা এবং সম্মানের, কিন্তু আজকের এই পুরস্কারটি আমার জন্য স্পেশাল হয়ে থাকবে। আমার জীবনে এগিয়ে চলার পথে যারা অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ দিয়েছেন, সবাইকে আমি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।’ অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা ছাড়াও নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আরও তিন বিশিষ্ট নারীকে রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়। তারা হলেন নারীশিক্ষায় রুভানা রাকিব, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কল্পনা আক্তার এবং মানবাধিকার রক্ষায় নাবিলা ইদ্রিস। পদক তুলে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই পদক নারীদের আগামীর পথচলায় নতুন দিশা ও শক্তি জোগাবে। বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার আদর্শ ও নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র তুলে ধরা হয়।