বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সম্প্রচারের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে ভারতের বহুজাতিক মিডিয়া ও বিনোদন কোম্পানি জি এন্টারটেইনমেন্ট আসন্ন বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারের স্বত্ব অর্জন করেছে।

বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা আসরের জন্য ফিফা এবং বিভিন্ন সম্ভাব্য ব্রডকাস্টারদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চললেও, ভারতই ছিল সবশেষ বড় বাজার যেখানে কোনো সম্প্রচারকারী চূড়ান্ত ছিল না। এই চুক্তির ফলে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ফিফার আরও ৩৮টি ইভেন্ট সম্প্রচারের অধিকার পেয়েছে ‘জি’।

চুক্তির আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপ সম্প্রচার করার প্যাকেজটির জন্য ফিফা শুরুতে ভারতের বাজার থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার দাবি করেছিল, যদিও পরবর্তীতে তারা সেই দাম কমিয়ে ৬ কোটি ডলারে নামিয়ে আনে।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টস ব্রডকাস্টার 'জিওস্টার' (রিলায়েন্স-ডিজনি যৌথ উদ্যোগ, যারা তাদের পূর্বসূরি ভায়া.কম১৮-এর মাধ্যমে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল) এই স্বত্বের জন্য প্রায় ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে রয়টার্সের সূত্রমতে, ফিফা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে, ভারতে ২০১৪ এবং ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচার করা সোনি-ও এই রাইটস প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয়নি।

‘জি’ এর সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ফিফার চিফ বিজনেস অফিসার রমি গাই বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপ হলো পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় মহোৎসব। এই বৈশ্বিক আসরটিকে ভারতের দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে প্রথমবারের মতো ‘জি’-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘কৌশলগত দিক থেকে ভারতের বাজার ফিফার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তরুণ এবং ফুটবলপ্রেমী এক বিশাল জনগোষ্ঠীর হাত ধরে এখানে ফুটবলের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ‘জি’-এর বিস্তৃত সম্প্রচার ও ডিজিটাল সম্প্রচার ও বণ্টন ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে স্থানীয় দর্শক ও মাল্টি-প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে তাদের গভীর অভিজ্ঞতা ভারতের প্রতিটি প্রান্তের ফুটবল ভক্তদের মাঝে ফুটবলের জনপ্রিয়তা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে ফিফার সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের পার্থক্য। কাতার বিশ্বকাপ ভারতীয় দর্শকদের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য অধিকাংশ ম্যাচই ভারতে গভীর রাতে সম্প্রচার হবে। ফলে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ কিছুটা কমে যায় এবং ফিফার জন্য স্বত্ব বিক্রি করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত মিলল সমাধান।