সৌদি আরবের জেদ্দায় আজ রোববার সুপার কাপের ফাইনালে রেয়ালের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। গত অক্টোবরে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ২-১ গোলের সেই হারের পর থেকে লা লিগায় টানা ৯ ম্যাচে জিতেছে বার্সেলোনা। চোট কাটিয়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ফিরেছেন মাঠে। প্রায় পূর্ণ শক্তির দলই নামাতে পারছেন কোচ ফ্লিক। পোস্টে ফিরেছেন আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা হোয়ান গার্সিয়া। ফিরেছেন রবের্ত লেভানদোভস্কি, রাফিনিয়া ও দানি ওলমো। নেই কেবল মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন, গাভি, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ও রোনাল্দ আরাউহো। দলের সঙ্গে সৌদি আরবে আছেন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার আরাউহো। তবে ফাইনালের স্কোয়াডে থাকবেন না তিনি। ডাভিড আলাবা, আন্টোনিও রুডিগার, ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড, এদের মিলিতাও ও ব্রাহিম দিয়াসকে পাচ্ছেন না রেয়াল কোচ শাবি আলোন্সো। তবে ডিন হাউসেন, দানি কার্ভাহাল ও দানি সেবাইয়োসকে ফিরে পেয়েছেন তিনি। স্প্যানিশ গণমাধ্যমে খবর এসেছিল, চোটের জন্য সুপার কাপের পুরোটা থেকেই ছিটকে গেছেন কিলিয়ান এমবাপে। তাকে ছাড়াই দল ঘোষণা করেছিল রেয়াল। তবে চলতি মৌসুমে ২৯ ম্যাচে ২৪ গোল করা ফরাসি ফরোয়ার্ড যোগ দিচ্ছেন দলের সঙ্গে। ফাইনালে তার খেলা নিশ্চিত নয় এখনও। ছোটখাট সমস্যা আছে রাউল আন্সেসিও ও রদ্রিগোর। অক্টোবরের ক্লাসিকোর পর দুই দলই খেলেছে ১৪টি করে ম্যাচ। এর ১২টিতে জিতেছে বার্সেলোনা, একটিতে ড্র করেছে এবং হেরেছে একটিতে। অন্য দিকে, রেয়াল জিতেছে আটটিতে, ড্র করেছে ও হেরেছে তিনটি করে ম্যাচে। লা লিগায় এক সময়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা রেয়াল এখন ৪ পয়েন্টে পিছিয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরেছে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। ক্লাসিকোর পর ৪০ গোল করেছে বার্সেলোনা আর রেয়াল করতে পেরেছে ২৯টি। সৌদি আরবে এই নিয়ে টানা চতুর্থ সুপার কাপ ফাইনালে খেলবে রেয়াল ও বার্সেলোনা। ২০২৩ ও ২০২৫ সালে জিতেছে বার্সেলোনা, ২০২৪ সালে রেয়াল। গত বছর ইউরোপের সফলতম দলটিকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিলেন রাফিনিয়া, ইয়ামালরা। এবার আথলেতিক বিলবাওকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। চোট নিয়ে অনেক সমস্যা থাকলেও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়ে তাদের সঙ্গী হয়েছে রেয়াল। গত মৌসুমে সুপার কাপ জয় হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনার জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় তারা লা লিগা ও কোপা দেল রে দুটিরই শিরোপা জয় করে। এর আগের তিন মৌসুমেও সুপার কাপ জয়ীরা গতমৌসুমে স্প্যানিশ লিগ জয়ের স্বাদও পেয়েছে। আলোনসো বলেন, “দুটি বিষয় পরিষ্কার, আমরা এখন যে টুর্নামেন্টে খেলছি এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুরো মৌসুমের অগ্রাধিকার তালিকায় এটি চতুর্থ।” ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপের প্রত্যাবর্তনে আলোনসো বড় স্বস্তি খুঁজে পেয়েছেন। হাঁটুর ইনজুরির কারণে এ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় এবং রিয়াল বেতিসকে ৫-১ গোলে হারানোর ম্যাচ দুটি তিনি মিস করেছিলেন। আলোনসো জানান, বার্সেলোনার বিপক্ষে এমবাপের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা অন্য যে কারও মতোই। যদিও আরও এক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার কথা ছিল, তবু কোচ বিশ্বাস করেন তিনি পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ ম্যাচে ২৯ গোল নিয়ে এমবাপে এ মৌসুমে রিয়ালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং স্পষ্টভাবে সেরা পারফরমার। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর বার্সেলোনার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে তিনি ছয় গোল করেছেন। তবে এমবাপের ফেরা আলোনসোর জন্য কিছুটা জটিলতাও তৈরি করতে পারে। কারণ এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম একসঙ্গে খেললে দল সব সময় সেরা ছন্দে থাকে না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আলোনসোর জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রডরিগো গোয়েৎসে। ৩২ ম্যাচে গোলহীন থাকার হতাশাজনক সময় কাটানোর পর, শেষ পাঁচ ম্যাচে তিনি তিন গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেনন। অন্য প্রান্তে ভিনিসিয়াস ফর্মহীনতায় ভুগছেন। ২০২৪ ব্যালন ডি’অর র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতঅয় হওয়ার পর থেকে তিনি নিজের সেরা ছন্দ থেকে অনেকটাই দূরে। রিয়ালের হয়ে শেষ ১৬ ম্যাচে তিনি কোনো গোল পাননি, ফলে বার্সার বিপক্ষে তাকে খেলাবেন কি না- এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে আলোনসোকেই। গত মৌসুমে চার দেখায় চারবারই রিয়ালকে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে চলতি মৌসুমের অক্টোবরে লা লিগায় আলোনসোর দল প্রতিপক্ষকে ২-১ গোলে হারিয়েছে। রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বলেন, আমাদের জিততেই হবে, গত বছর ওদের বিপক্ষে আমরা দুটি ফাইনাল হেরেছি।
ফুটবল
সুপার কাপ ফাইনালে আজ রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
সৌদি আরবের জেদ্দায় আজ রোববার সুপার কাপের ফাইনালে রেয়ালের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। গত অক্টোবরে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ২-১ গোলের সেই হারের পর থেকে লা লিগায় টানা ৯ ম্যাচে জিতেছে বার্সেলোনা। চোট কাটিয়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ফিরেছেন মাঠে। প্রায় পূর্ণ শক্তির দলই নামাতে পারছেন কোচ ফ্লিক।
Printed Edition