বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ০-২ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। গতকাল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান ০-৫ গোল। তবে ৫ গোলে হার বড় হলেও বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার এটিকে অসম্মানজনক হিসেবে দেখছেন না। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘আমরা একটি অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলেছি। যা আমাদের জন্য প্রকৃত শিক্ষণীয়। আমরা তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি এবং ৫-০, ৬-০, ৭-০ গোলে হেরে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়।’ বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ১১২, সেখানে উত্তর কোরিয়ার ৯। এমন দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশ প্রথম ৪৫ মিনিট উত্তর কোরিয়াকে রুখেছিল। এরপরও শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ০-৫। এটা খানিকটা হতাশার কিনা প্রশ্নে বাটলারের উত্তর, ‘আমি দুঃখিত বা হতাশ নই মোটেও। আপনি কি প্রতিপক্ষ বিবেচনা করেছেন যাদের সঙ্গে ৩০-৪০ মিনিটেও ৪ গোল হয়ে যেতে পারতো। চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেললে আপনি গোল খাবেন-ই।’ বাংলাদেশ দুই ম্যাচে ৭ গোল হজম করেছে। সাত গোলের মধ্যে ছয় গোলই হয়েছে পরপর দুই মিনিটের মধ্যে ব্যবধান। চীন ৪৩-৪৪ মিনিটে, আজ উত্তর কোরিয়া প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে টানা দুটি, এরপর ৬৩-৬৫ মিনিটে দুই গোল করে। খুব দ্রুত গোল হজমের বিষয়ে বাটলার বলেন, ‘মনোযোগের অভাব একটা কারণ হতে পারে। আবার আপনাকে এটাও মনে রাখতে হবে আপনি উত্তর কোরিয়া, চীনের সঙ্গে খেলছেন। তারা কেবল ভালো ফুটবলারই নয়, উঁচু মানের অ্যাথলেটও। আমরা ভুল করবই এবং যাত্রাপথে শিখব।’ এই ম্যাচে ডিফেন্সে ছোটখাটো ভুল হয়েছে। সেই ভুলের জন্য কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান না কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েদের সমালোচনা করতে পারি না এবং আমরা কেবল সেই স্তরে নেই এবং আমাদের নিজেদের কাছে সৎ হতে হবে।’ বাংলাদেশ প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনটি পরিবর্তন করেছিল। ওই সময়ে সাধারণত সচারচর এ রকম বদল হয় না। এর কারণ সম্পর্কে বাটলার বলেন, ‘চীনের ম্যাচের বিষয়টি আমি আমলে নিয়েছিলাম। ওই ম্যাচে ৪৩-৪৪ মিনিটে দুই গোল হজম করেছিলাম। কারণ ওই সময় আমার ফুটবলাররা ক্লান্ত ছিল।

সেটা ভেবেই আমি আজ পরিবর্তন করেছিলাম। আজকের ফলের পর হয়তো ভাবতে পারে আমার সিদ্ধান্ত ভুল কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছিল কয়েকজন ক্লান্ত।’ বাংলাদেশ চীনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আক্রমণ করেছিল। বিশেষ করে ঋতুপর্ণার দূরপাল্লার শট পুরো ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত। ম্যাচে সেই রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনকি বাংলাদেশ কোনো শট অন টার্গেটও নিতে পারেনি। এ নিয়ে প্রশ্ন হওয়ায় খানিকটা ক্ষিপ্ত বাংলাদেশের কোচ, ‘আমি মাত্রই বললাম যে আপনি একটি শীর্ষ মানের ফুটবল দলের বিপক্ষে খেলেছেন, যারা আমাদের থামিয়ে দিয়েছে। আপনি হয়তো আমার আগের মন্তব্যগুলো শুনেননি।’