প্যারিস থেকে মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম : ফরাসি ফুটবলের শীর্ষ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা লিগ আঁ-এ আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে প্যারি সাঁ-জার্মাঁ (পিএসজি)। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাবটি টানা পঞ্চমবারের মতো লিগ শিরোপা জিতে ফরাসি ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করেছে। গত এক দশকে প্যারিসের এই ক্লাবটি দেশীয় ফুটবলের শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই পিএসজি ছিল শিরোপার প্রধান দাবিদার। কোচ লুইস এনরিক-এর পরিকল্পনায় দলটি আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে অসাধারণ ভারসাম্য গড়ে তোলে। আগের তুলনায় এবার দলটি আরও সংগঠিত, দ্রুতগতির এবং দলীয় সমন্বয়নির্ভর ফুটবল উপহার দিয়েছে।

শিরোপার পথে গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ একাধিক ম্যাচে অসাধারণ সেভ করে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে অধিনায়ক মারকিনিয়ুস অভিজ্ঞ নেতৃত্ব দিয়ে রক্ষণভাগকে স্থিতিশীল রাখেন এবং দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।পিএসজির এই সাফল্যের পেছনে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও শক্তিশালী অবকাঠামো। কাতারি মালিকানায় ক্লাবটি বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, উন্নত যুব উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

তবে পিএসজির এই আধিপত্য নিয়ে ফুটবল মহলে বিতর্কও রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ক্লাবটির আর্থিক শক্তির কারণে লিগে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য কমে গেছে। এই মৌসুমে পিএসজির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা, যা দলকে আরও গতিশীল করেছে। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে অলিম্পিক দ্য মার্সেই, এ-এস মোনাকো, অলিম্পিক লিয়োনে এবং লিল ও-এস-সে একসময় শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করলেও বর্তমানে সেই অবস্থান অনেকটাই পিএসজির দখলে।

দেশীয় সাফল্যের পাশাপাশি ইউরোপের মঞ্চেও পিএসজি ইতিহাস গড়েছে। ইউইএফএ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ২০২৬-এ ইংল্যান্ডের আর্সেনাল-কে টাইব্রেকারে হারিয়ে তারা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউইএফএ চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয় করেছে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় শেষ হলেও শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে জয় নিশ্চিত করে প্যারিসের ক্লাব। সব মিলিয়ে, ২০২৫-২৬ মৌসুম পিএসজির জন্য এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফুটবল উন্মাদনায় জ্বলছে প্যারিস

এদিকে, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা ইউইএফএ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালকে কেন্দ্র করে উদযাপনের সময় ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের জাতীয় দৈনিক ল্য মঁদ সূত্রে জানা যায়, প্যারিসের প্রধান সড়ক শঁজেলিজে এলাকায় হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়ে আতশবাজি ফোটানো, পতাকা নাড়ানো এবং বিজয় উদযাপন শুরু করেন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যখন কিছু অংশে পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ করেই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয় এবং একাধিক স্থানে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া সারে পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস, জলকামান এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। রাতভর অভিযান চালিয়ে শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।