আগামী ১৩ ১৪ জানুয়ারি থেকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যথাক্রমে সাফ নারী ও পুরুষ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হতে যাচ্ছে। এতে উভয় বিভাগেই অংশ নিবে বাংলাদেশ দল। প্রথমবার হতে যাওয়া সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ১৬ সদস্যের নারী ও পুরুষ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তাতে সাফজয়ী অধিনায়ক সাবিনা খাতুনকে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড দেওয়া হয়েছে। পুরুষ বিভাগে কানাডা প্রবাসী রাহবার খানের হাতেই রয়েছে বাংলাদেশের আর্মব্যান্ড। প্রথমবার মেয়েদের সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে ১৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ইতিবাচক ফল করতে চাইছে।শুক্রবার ঢাকা ছাড়ার আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ভালো ফল করার দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। মেয়েদের এই আসরেও সাতটি দেশ অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়া অংশ নিতে যাওয়া ৬টি দেশ হল-ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারতের বিপক্ষে। এরপর ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং সবশেষ মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে সাবিনারা। বাফুফে ভবনে সাবিনা খাতুন বলেছেন, ‘ফুটসালের প্রতি আমার আলাদা একটা সফটনেস আছে। বাংলাদেশের প্রথম কোনও নারী ফুটবলার বিদেশের মাটিতে খেলেছিল, সেটা হচ্ছি আমি এবং তখন ফুটসাল খেলতেই গিয়েছিলাম। সাফে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি, একটা ভালো পজিশনে নিয়ে যেতে পারি, নেক্সট জেনারেশন যারা আসবে তাদের জন্য একটু সহজ হবে।’ ফুটবলের পাশাপাশি ফুটসালও খেলছেন সাবিনা। এ নিয়ে বললেন, ‘আসলে ক্যারিয়ার কখন শেষ হবে সেটা মনে হয় যে প্লেয়াররা ডিসাইড করলে বেটার হয়। আমি যে ফুটসালে এখন কমিটেড এরকমও কিছু না। যেহেতু আমি খেলেছি আগে, আমার অভিজ্ঞতা আছে।

আমার জন্য যদি দেশের একটু ভালো হয় বা আমি যদি বাকি মেয়েদেরকে সাপোর্ট দিতে পারি তাহলে কেন যাবো না? আমার যেখানে আসলে প্রয়োজন মনে হবে যেহেতু দুইটা গেমই আমি পারি, তাই চেষ্টা করবো ওই জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেয়ার।’ ব্যাংককে আগে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা। সাফ ফুটসালে ফল নিয়ে সাবিনার পরিষ্কার বার্তা, ‘আসলে কোনও টিমের সম্পর্কে আমাদের কোনও ধারণা নেই। তবে মালদ্বীপকে যদি দেখেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে ওরা বেশ অভিজ্ঞ এবং ওখানকার মেয়েরা মূলত ফুটসালই খেলে। আমাদের চেয়ে মালদ্বীপ এগিয়ে থাকবে এবং ইন্ডিয়া বেশ কিছু কোয়ালিফায়ার্স খেলছে ফুটসালে, তারা অবশ্যই সবসময় শক্তিশালী হয় এবং ওদের পরিকল্পনা সবসময় আগের থেকেই থাকে। বাকি টিমগুলো যারা আছে তারা আমাদের মতোই নতুন। তবে এক মাসের একটু বেশি সময় অনুশীলন করেছি। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় যে আমরা ভালো কিছু করবো।’

মাতসুশিমা সুমাইয়া প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘এখন আমরা সাফে যাচ্ছি। তবে একটি বড় অনুরোধ আছে-আমাদের একটি ফুটসাল স্টেডিয়াম প্রয়োজন। এখন দুটি ন্যাশনাল টিম (নারী ও পুরুষ) প্রস্তুত হচ্ছে কিন্তু ঢাকায় কিছু স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন ট্রেনিং করতে পারছি না, সেটি আমার কাছে বড় প্রশ্ন।’

বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটসাল দল: সাবিনা খাতুন (অধিনায়ক), সুমাইয়া মাতসুশিমা, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণারানী সরকার, লিপি আক্তার, মেহেনুর আক্তার, নওশন জাহান, নিলুফা ইয়াসমিন নিলা, মারজিয়া, রাত্রি মনি, সুমি খাতুন, মিশরাত জাহান মৌসুমি, ইতি রানী, সাথী বিশ্বাস, স্বপ্না আক্তার জিলি।