ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজের যুবারা। এর আগে ২০২৪ সালের আসরেও শিরোপা জিতেছিল লাল সবুজের দল। মালদ্বীপের মালে শহরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের এই জয়ের পর বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে মেতেছে রোনান, মুর্শেদ ও মাহিনরা। ট্রফি ধরে রেখে দেশের ফুটবল প্রেমী মানুষের আস্থার প্রতিদান দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ফাইনাল খেলার নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। খেলায় নির্ধারিত সময়ের মতো টাইব্রেকারেও অনেক নাটকীয়তা হয়েছে। টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক প্রথমে শট নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শট সেভ করেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন। বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল। এ সময় ভারতের গোলরক্ষক চোটের কারণে সময়ক্ষেপণ করেন। চিকিৎসা নেয়ার পর পোস্টে দাঁড়ালে স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লাগে। তখন চার শট শেষে স্কোরলাইন ৩-৩।
দুই দলের শেষ শটটি তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের হয়ে এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলার শট নিতে আসেন। তার নেয়া শট পোস্টের অনেক উপর দিয়ে যায়। বাংলাদেশ শেষ শটে গোল করলেই চ্যাম্পিয়ন। এমন সমীকরণে স্নায়ুচাপের সেই মুহূর্তে শেষ শট নিতে এগিয়ে আসেন ১২ নম্বর জার্সিধারী বাংলাদেশী বংশম্ভূত আমেরিকান রোনান সুলিভান। আলতো এক ছোঁয়া, গোলরক্ষক ভুল দিকে ঝাঁপ দেন, বল ধীরে জালে জড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ পায় টানা দ্বিতীয় শিরোপা। রোনান সুলিভানের নেয়া এই শটটি ফুটবলে পরিচিত ‘পানেনকা’ নামে। ১৯৭৬ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার আন্তোনিন পানেনকার বিখ্যাত সেই কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি। মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাস। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন আবার সাফ অ-২০ টুর্নামেন্টে।
ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলের লড়াকু মানসিকতার কথা তুলে ধরেন অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী। চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি এই ট্রফিটি তার এক বন্ধুকে উৎসর্গ করেছেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মিঠু বলেন, “আমি চার বছর ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহ আমাদের তা দিয়েছেন। তবে বিজয়ের এই দিনে আমি বন্ধু আশিককে খুব মিস করছি। ও থাকলে আজ অনেক খুশি হতো, আমি এই ট্রফিটি তাকেই উৎসর্গ করতে চাই।”
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ভারতের প্রথম শটটি অসামান্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মাহিন। ঘরোয়া ফুটবলে মোহামেডানের এই অতন্দ্র প্রহরী ম্যাচ শেষে বলেন, “অনুভূতিটা অসাধারণ। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমরা ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন ও বিশ্বাস রক্ষা করতে পেরেছি।”
মালেতে খেলা হলেও গ্যালারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গগণবিদারী চিৎকারে মনেই হয়নি যে এটি বিদেশের মাটি। সমর্থকদের প্রশংসা করে অধিনায়ক মিঠু বলেন, “ফ্যানরা আমাদের অভাবনীয় সমর্থন দিয়েছেন। তাদের এই ভালোবাসার কারণেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি ফ্যান চাইবো এবং আরও শিরোপা জিততে চাই।”
ফরোয়ার্ড মুর্শেদ আলী জয়ের পর বলেন, “খুবই এক্সাইটেড আমি! কি বলবো বুঝতে পারছি না। এখন শুধু দেশবাসীর সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।” আরেক ফুটবলার আব্দুল রিয়াদ ফাহিম বলেন, “এটি আমাদের স্বপ্নের ফাইনাল ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। এই জয় আমরা পুরো দেশবাসীকে উৎসর্গ করলাম।”