চরম বিশৃঙ্খলা আর মাঠের উত্তেজনা ছাপিয়ে মরক্কোকে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের (এএফকন) শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল তারা। ফাইনালে দু‘দলের মাঠের লড়াইটি চলেছে প্রায় দেড়শ মিনিট।এতে ফুটবল ছাড়াও ছিল বিতর্ক-উত্তেজনা। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে পেনাল্টি পায় মরক্কো, রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ক্ষোভে মাঠে ছাড়ে সেনেগাল। মিনিট দশেক পর ফিরেও আসে, আর পেনাল্টিতে গোল তুলতে পারে না মরক্কো। গোল করে বসে সেনেগাল, তুলে নেয় নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা। মরক্কোর মাঠ প্রিন্স মৌলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন সেনেগালের প্যাপ গুয়ে। ৯০ মিনিট পর্যন্ত গোলের দেখা না মিললে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা।
ম্যাচ জুড়ে দুদল মিলে ফাউল করেছে ৪২ বার, হলুদ কার্ডের দেখাতে হয় ৭ বার, যার মধ্যে সেনেগালেরই ৫টি। নির্ধারিত সময়ে আক্রমণাত্মক খেললেও জালের দেখা পায়নি কেউই। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি পায় মরক্কো। সেই পেনাল্টি মেনে নিতে পারেনি দলটির খেলোয়াড়রা এবং কোচ। রেফারির সিদ্ধান্তে কোচ প্যাপ থিয়া এতটা চটে যান, পুরো দলকে মাঠ ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। অবশ্য আট মিনিট পর আবার মাঠে ফেরে খেলা। মরক্কোর সুযোগ আসে প্রায় ৫০ বছর পর আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সেই দায়িত্ব নেন ব্রাহিম দিয়াজ, নেন পেনাল্টি শট। শট ঠেকিয়ে সেনেগালকে উদ্ধার করেন গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি। আক্ষেপ বাড়ে মরক্কোর, আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় সেনেগালিজরা। গোলশূন্য শেষ হয় ৯০ মিনিট।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে খেলা গড়ায়, ম্যাচের ৯৪ মিনিটে গোলও পেয়ে যায় সেনেগাল। ইদ্রিসা গুয়ের অ্যাসিস্টে গোল আনেন প্যাপ গুয়ে। অতিরিক্ত সময়ের বাকিটাতে কোন দলই আর সাফল্য না পেলে ১-০তে জয় নিয়ে শিরোপা হাতে তোলে সাদিও মানের সেনেগাল। সর্বশেষ ২০২১ সালে মিশরকে ৪-২ ব্যবধানে পেনাল্টিতে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছিল সেনেগাল। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতানো এবং একমাস আগে ফিফা আরব কাপ জেতা আশরাফ হাকিমি-ব্রাহিম দিয়াজদের মরক্কো আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতেছে কেবল একবার, সেটিও ১৯৭৬ সালে।