গত পাঁচ আসরের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতলো ভারত। ২০১৮ সাল থেকে সাউথ এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলে তিন ক্যাটাগরি বয়সের টুর্নামেন্ট হয়ে আসছে। অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েদের এই প্রতিযোগিতায় এতদিন ছিল বাংলাদেশেরই জয়জয়কার। এ পর্যন্ত হওয়া ৬ আসরের মধ্যে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার ষষ্ঠ আসরের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। টুর্নামেন্টের রাউন্ড রবিন লিগে দাপুটে ও অজেয় থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভুলের মাশুল গুনেছে ফাইনালে। গতকাল শনিবার নেপালের পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অপির্তা-আলপিদের ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে ভারত। রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল ভারত। এই জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে প্রথমবার এককভাবে সাফ শিরোপা জিতল ভারত। এর আগে ২০২১ সালে বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে শিরোপা ঘরে তুলেছিল। আর ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের বহুল আলোচিত ‘টস কাণ্ড’-এর পর দু’দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। নেপালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ আসরে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। রাউন্ড রবিন লিগে তিন ম্যাচে তিন জয়, কোনো গোল না খেয়ে প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোল দেয়ার আত্মবিশ্বাস ছিল দলের সঙ্গে। কিন্তু ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সেই চেনা বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া গেল না। ম্যাচের শুরুটা ছিল দু’দলেরই সাবধানী। রাউন্ড রবিন লিগে একমাত্র হারের তেতো অভিজ্ঞতা ভারতের খেলায় সতর্কতার ছাপ ফেলেছিল। বাংলাদেশও ঝুঁকি না নিয়ে গুছিয়ে খেলতে চেয়েছে। ফলে প্রথমার্ধের বড় অংশজুড়ে ম্যাচ ছিল ধীরগতির। দ্বিতীয় মিনিটেই যদিও সম্ভাব্য বিপদ সামাল দেন গোলকিপার ইয়ারজান বেগম। ভারতের এক ফরোয়ার্ড বলের নাগাল পাওয়ার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে সাহসী শটে আক্রমণ ভেস্তে দেন তিনি। ১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে আলবা দেবির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়েন সুরভি আক্তার আফরিন। সেই ফ্রি কিক নেন আভিস্তা বাসনেত, তবে শট সরাসরি চলে যায় ইয়ারজানের হাতে। ম্যাচে প্রথম বড় ধাক্কা আসে ৪২তম মিনিটে। বাম দিক থেকে আসা একটি ক্রস ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। দূরের পোস্টে ফাঁকায় থাকা প্রীতিকা বর্মন বল পেয়ে গেলেও নিজে শট না নিয়ে পাস বাড়ান ঝুলান নঙ্গমাইথেমের দিকে। ভারত অধিনায়ক সহজেই ইয়ারজানকে পরাস্ত করে জালে বল পাঠান। চলতি টুর্নামেন্টে এই প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ।১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিটার জেমস বাটলারের দল। বিরতির পর সমতাসূচক গোলের খোঁজে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয় বাংলাদেশ। ৫২তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পান তৃষ্ণা রানী। সতীর্থের থ্রু পাস ধরে গোলকিপারকে একা পেলেও অবিশ্বাস্যভাবে শট বাইরে মারেন তিনি। সুযোগ নষ্ট করে হতাশায় বক্সেই বসে পড়েন তৃষ্ণা। এরপর থেকেই ম্যাচ আরও কঠিন হয়ে ওঠে বাংলাদেশের জন্য। ৬২তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ভারত। আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে ইয়ারজান পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এলেও বলের নাগাল পাননি। এরপর বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে আলবা দেবি প্রতিমা মুন্দার আলতো স্পর্শে বক্সের ভেতরে পড়ে গেলে রেফারি স্পট কিকের সিদ্ধান্ত দেন। এলিজাবেথ লাকরা সফলভাবে পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ান। ৬৮তম মিনিটে আসে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট গোল। অর্পিতার ব্যাক পাস ক্লিয়ার করার যথেষ্ট সময় পেয়েও ইয়ারজান সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। পার্ল ফার্নান্দেসের চাপের মুখে নেয়া তার শট প্রতিপক্ষের গায়েই লাগে। ফিরে আসা বল আলতো টোকায় জালে পাঠিয়ে দেন পার্ল নিজেই। তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।