যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দোৎসব শুরু হতে বাকি প্রায় পাঁচ মাস। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো থেকে শুরু হবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের আয়োজনে এবারের আসর। এর আগে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছে সোনালি এই ট্রফি। আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ভারত হয়ে এই ট্রফি এখন ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি। এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে পা রাখল বিশ্বকাপের ট্রফিটি। এ সফরে ফিফার প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী দলের মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিফার স্পন্সর কোকাকোলার সহযোগিতায় দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার পাঁচতারা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু‘তে রাখা হয় ট্রফিটি। কোকাকোলার বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া ভাগ্যবানরা সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ঐতিহাসিক ট্রফিটি।

গত ১৫ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি ইন্টারঅ্যাকটিভ ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমো ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছিল কোকা-কোলা। সেই ক্যাম্পেইন বিজয়ীরাই শুধু এ ট্রফি দেখতে পারবেন। ছবি তোলার সুযোগও পাবেন। এজন্য অবশ্যই বৈধ টিকিটের প্রিন্ট কপি বা সফট কপি অথবা স্ক্রিনশট দেখাতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কোকা–কোলার ক্যাপও সঙ্গে নিতে হবে। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু বাধ্যবাধকতাও দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই ট্রফি স্পর্শ করা যাবে না। ৭/১০ ইঞ্চির চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক বহন করা যাবে না। ভেন্যুতে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনোভাবেই টিকিট হস্তান্তর, পুনরায় ব্যবহার বা শেয়ার করা যাবে না। ধারালো বা নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করা যাবে না। এ ছাড়া কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকাও সঙ্গে আনা যাবে না।

প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে নিয়ম করেই বিশ্বভ্রমণে বের হয়ে ভক্তদের কাছে গেছে বিশ্বকাপ ট্রফি। সর্বশেষ ২০২২ সালে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পেয়েছিলেন ৬ কেজি ১৭৫ গ্রাম ওজনের নিখাদ সোনায় তৈরি ট্রফিটি। বিশ্বকাপজয়ী দলকে এই ট্রফিটি দেয়া হয়না তা ফিফার তত্ত্বাবধানেই থাকে। বিশ্বকাপজয়ী দলকে সোনার প্রলেপ যুক্ত রেপ্লিকা ট্রফি দেওয়া হয়। এর আগে ফিফার ট্রফিটি বাংলাদেশে এসেছিল ২০০২, ২০১৩ সালে। ফিফা ট্রফি ট্যুর শুরু হয় ২০০৬ সালে। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে নিয়ম করেই বিশ্বভ্রমণে বের হয়ে ভক্তদের কাছে গেছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০২৬ বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর সৌদী আরব থেকে শুরু হয়েছে ৩ জানুয়ারি। বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে বিশ্বকাপ ট্রফি। বাংলাদেশে অবশ্য শুধু ঢাকার র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলই প্রদর্শিত হবে ট্রফি। পুরো ট্রফি ট্যুর শেষ হবে ১৫০ দিনে।

সৌদি আরবে শুরু হওয়া ট্রফি ট্যুর এরপর মিসর, তুরস্ক, অস্ট্রিয়া হয়ে গেছে ভারতে। ভারত থেকেই ট্রফিটি বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে যাবে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এরপর জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরিকোস্ট, মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন, আলজেরিয়া, ফ্রান্স, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যাবে। কানাডা থেকে আবার যুক্তরাষ্ট্র হয়ে মেক্সিকোতে গিয়ে শেষ হবে সফর।