ছোট দলের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দে জিতলেও বড় ম্যাচ এলেই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল বার্সেলোনা। পিএসজি ম্যাচ দিয়ে শুরু—তারপর রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি… লা লিগা বা চ্যাম্পিয়নস লিগ, গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোতে একই চিত্র। অবশেষে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে এসে সেই দৃশ্য বদলে দিল হানসি ফ্লিকের বার্সা। দারুণ লড়াই করে ৩–১ গোলের জয়ে মাঠ ছেড়েছে কাতালানরা।
মৌসুমের শুরুর দুর্বলতা কাটিয়ে চমৎকার ছন্দে ছিল আতলেতিকো। সবশেষ পাঁচ ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ন্যু ক্যাম্পে পা রাখে তারা। বার্সেলোনাও শেষ চার লা লিগা ম্যাচে জয়ের ধারায় ছিল। ফলে ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরপুর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল শুরু থেকেই।
ম্যাচও হলো ঠিক তেমনই। বার্সেলোনা কিছুটা বেশি আধিপত্য দেখালেও প্রথমদিকে গোল হজম করতে হয়। নাহুয়েল মলিনার লম্বা পাস থেকে দারুণ নিয়ন্ত্রণে বল নিয়ে গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা—যা ছিল অনেকটাই খেলার ধারার বিপরীতে।
তবে দ্রুতই সমতায় ফিরেছে বার্সা। পেদ্রির নিখুঁত থ্রু বল ধরে রাফিনিয়া দারুণভাবে অবলাককে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে বল জড়ান।
প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বার্সার সামনে। দানি অলমোর তৈরি করে দেওয়া পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেননি রবার্ট লেভান্ডভস্কি—তার শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর লামিন ইয়ামালের ক্রস থেকে নেওয়া তার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন অবলাক। ফলে বিরতিতে স্কোরলাইন ১–১।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। ৬৫তম মিনিটে লেভান্ডভস্কির ব্যাকহিল ধরে বক্সে ঢুকে অলমো গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে দেন দ্বিতীয় গোল। ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সা।
তবে লিড নেওয়ার পরও নিশ্চিন্ত হতে পারেনি দলটি। ফ্লিক উচ্চ-লাইন রক্ষণ থেকে সরে এসে দলকে কিছুটা রক্ষণাত্মকভাবে সাজান। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টির দাবি তুলে ব্যর্থ হয় আতলেতিকো। শেষ দিকে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণও সামলাতে হয় বার্সাকে।
শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে স্বস্তি আসে। পাল্টা আক্রমণে অ্যালেক্স বালদে বল বাড়ান ফেররান তোরেসকে, তিনিই নিশ্চিত করে দেন কাতালানদের জয়।
এই জয়ে ১৫ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ ৩৪ পয়েন্ট। আজ রাতে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।