২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র মাস ছয়েক বাকি। এই মহাযজ্ঞে নিজেদের দেশকে সমর্থন জানাতে ফুটবলপ্রেমীরা যখন টিকিট সংগ্রহের জন্য মুখিয়ে আছেন, ঠিক তখনই শুরু হয়েছে বড় বিপত্তি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো আয়োজিত এই বিশ্বকাপের তৃতীয় ধাপের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে ফিফা আর টিকিটের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যেই চটেছেন বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকরা। বিশেষ করে ইউরোপের ফুটবল সমর্থকগোষ্ঠী ক্ষোভ প্রকাশ করে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ‘চরম বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রির তৃতীয় ও শেষ পর্যায়, যাকে বলা হচ্ছে ‘র্যান্ডম সিলেকশন ড্র’-এর তৃতীয় পর্ব। এই প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। আগ্রহী দর্শকদের প্রথমে ফিফার টিকিটিং ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘ফিফা আইডি’তে সাইন আপ করে নির্দিষ্ট ম্যাচগুলোর টিকিটের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে। এরপর আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ফেব্রুয়ারিতে টিকিট বণ্টন করা হবে। যারা টিকিট পাবেন, কেবল তখনই তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেয়া হবে।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে টিকিটের দাম নিয়ে। ইউরোপীয় ফুটবল সমর্থকদের সংগঠনগুলোর (এফএসই) আশঙ্কা, আগামী বিশ্বকাপের টিকিটের এই রেকর্ড উচ্চ মূল্যের কারণে বহু অনুগত সমর্থক স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার হারাবেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য অতীতের যেকোনো আসরের তুলনায় এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের বিভিন্ন ম্যাচের টিকিটের দাম ১৮০ ডলার থেকে শুরু করে ৭০০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফাইনাল ম্যাচের জন্য সর্বনিম্ন ৪১৮৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৮৬৮০ ডলার মূল্য ধার্য করা হয়েছে। যদিও ফিফা নিয়ম অনুযায়ী মোট টিকিটের ৮ শতাংশ জাতীয় সংস্থাগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখে, যাতে তারা সেগুলো তাদের নিবেদিত ভক্তদের কাছে বিক্রি করতে পারে। গ্রুপ পর্বের টিকিটের এই মূল্য ফিফার পূর্ববর্তী ঘোষণার সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছিল যে ৬০ ডলারেও টিকিট পাওয়া যাবে। এমনকি সাত বছর আগে টুর্নামেন্টের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, শুরুর দিকের ম্যাচগুলোর জন্য ২১ ডলার মূল্যের সাত লক্ষেরও বেশি টিকিট পাওয়া যাবে।ইউরোপের ফুটবল সমর্থক সংগঠন এফএসই বর্তমান মূল্যকে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে,‘এটি বিশ্বকাপের ঐতিহ্যের প্রতি এক বড় বিশ্বাসঘাতকতা, যা সেই ভক্তদের অবদানকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করছে, যারা এই উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।’ ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ‘ইংল্যান্ড সাপোর্টাস ট্রাভেল ক্লাব’কে টিকিটের তথ্য জানিয়েছে। একজন সমর্থক যদি গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সব ম্যাচ দেখতে চান, তবে তার খরচ হবে ৭ হাজারেরও বেশি ডলার, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।ফুটবল সমর্থক সংগঠন এফএসই তাই ফিফার কাছে অবিলম্বে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।