লা লিগায় এবার বড় ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ। একসঙ্গে দলের চারজন খেলোয়াড়কে ঘরোয়া নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হলো। এমনটাই নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষের ম্যাচে আচরণগত কারণে এই শাস্তি পেয়েছেন তারা। এরআগে রোববার সেল্টার মাঠে ২-০ গোলের হতাশাজনক হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল রিয়াল। কিন্তু জাবি আলোনসোর দলের দুর্দশা কেবল স্কোরলাইনেই থামেনি। ম্যাচ চলাকালীন এবং পরবর্তী বিক্ষোভে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ফ্রান গার্সিয়া, আলভারো কাররেয়ারাস, এন্ডরিক এবং দানি কার্ভাহালকে। ফ্রান গার্সিয়া ও কাররেয়ারাস দুজনই ম্যাচ চলাকালীন দুটি করে হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। অন্যদিকে এন্ডরিক ও দানি কার্ভাহালকে বেঞ্চ থেকে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি এবং প্রতিবাদের কারণে দেখানো হয় সরাসরি লাল কার্ড। তিন দিন অপেক্ষার পর অবশেষে তাদের শাস্তির দৈর্ঘ্য জানা গেল। কোপে’র সাংবাদিক আরাঞ্চা রদ্রিগেস জানিয়েছেন, এন্ডরিক, দানি কার্ভাহাল এবং কাররেয়ারাসকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান গার্সিয়ার ওপর আরোপিত হয়েছে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। লা লিগার পরবর্তী রাউন্ডগুলো সামনে রেখে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। ম্যাচের তিনদিন পর চার খেলোয়াড়ই জানতে পারেন তাদের শাস্তির মাত্রা। সাংবাদিক আরাঞ্চা রদ্রিগেজের জানিয়েছেন, কাররেসা, এনদ্রিক এবং কারভাহালকে লা লিগার পরবর্তী দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান গার্সিয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করবেন।
এদিকে ঘরোয়া লিগের ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার রাতে নিজেদের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ২-১ গোলের হারে শুধু পয়েন্ট খোয়ানোই নয়, কোচ জাভি আলোনসোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে দিল। লা লিগায় ধারাবাহিক হোঁচট খাওয়ার পর এই ম্যাচটি ছিল লস ব্ল্যাঙ্কোসদের জন্য আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু চোটের কারণে রক্ষণভাগের একাধিক স্তম্ভ- দানি কারভাহাল, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড এবং এদার মিলিতাও মাঠের বাইরে থাকায় রিয়ালের দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে। এমনকি দলের অন্যতম ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে ফিট না থাকায় সাইডলাইনে বসে দেখতে হয়েছে ম্যাচের পুরোটা। ম্যাচের শুরুটা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আশার আলো নিয়ে আসে। ২৮ মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়া জুড বেলিংহামের থ্রু পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন রদ্রিগো। এই মৌসুমের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উইঙ্গারের প্রথম গোলটি বার্নাব্যুতে সাময়িক স্বস্তি ফেরায়। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হলো মাত্র সাত মিনিট। রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার একটি তুলনামূলক দুর্বল সেভ কাজে লাগিয়ে ম্যানসিটির নিকো ও’রিলি দ্রুত সমতা ফেরান। আর বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে, ৪৩ মিনিটে অ্যান্টনিও রুডিগারের হ্যান্ডবল থেকে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে আর্লিং হালান্ড বল জালে জড়িয়ে পেপ গার্দিওলার দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় স্বাগতিক রিয়াল। একাধিক আক্রমণ শাণালেও ম্যানসিটির জমাট রক্ষণে বারবার প্রতিহত হয় তাদের প্রচেষ্টা। উল্টো, রিয়ালকে বড় ব্যবধানের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন থিবো কোর্তোয়া। ম্যাচজুড়ে অবিশ্বাস্য মোট ছয়টি সেভ করে তিনি ব্যবধান ২-১ এ আটকে রাখেন। এই জয়ের ফলে ম্যানসিটি ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, সমান সংখ্যক ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ নেমে গেছে সপ্তম স্থানে, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর আরও চাপ বাড়ালো। বার্নাব্যুতে এখন কোচ জাভি আলোনসোর দিন গোনা শুরু। এই হার হয়তো তার বিদায় ঘণ্টা বাজানোর পথটিকেই আরও প্রশস্ত করে দিল।
দিনের আরকে ম্যাচে ক্লাব ব্রাগকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপীয়ান আসনে শতভাগ জয়ের ধারা ধনে রেখেছে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল। এই জয়ে ৬ ম্যাচে সম্ভাব্য ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে গানার্সরা। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সাইমনের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে এ্যাথলেটিক বিলবাও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির সাথে গোলশুন্য ড্র করেছে। ২৮ বছর বয়সী সাইমন বেশ কিছু নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে স্বাগতিক বিলবাওয়ের প্লে-অপে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে। এ্যাথলেটিকের সাইমনের কারনে বারবার হতাশ হওয়া পিএসজি এই ড্রয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। লিগ পর্বের এখনো দুই রাউন্ড খেলা বাকি রয়েছে।