এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর একটু হলেই গোল করে ইতিহাস হতে পারতো ঋতুপর্ণা চাকমা। দূরপাল্লার ভাসানো শটে গোল করতে সিদ্ধহস্ত তিনি। আগের দিন এমনই সুযোগ এসেছিল। কিন্তু, অল্পের জন্য সিডনির মাঠে বঞ্চিত হতে হলো রাঙামাটি থেকে উঠে আসা এ ফরোয়ার্ডের। দীর্ঘদেহী গোলকিপার চেন চেন লাফিয়ে ঋতুপর্ণার শটটি ঠেকিয়ে দেন। এ নিয়ে সবার মধ্যে হতাশা কম নয়।
এশিয়ান কাপে চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ৯ বারের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে সাধ্যমতো লড়াই করেছে পিটার বাটলারের দল। তাই তো ম্যাচ শেষে আফঈদা-মিলিরা হারলেও লড়াই করার তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। মাঠেই গ্যালারির সামনে গিয়ে প্রবাসী দর্শকদের সঙ্গে হাত মিলানো থেকে শুরু করে সেলফিও তুলেছেন।
এরপর মিক্সডজোনে বাংলাদেশ থেকে ম্যাচ কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সেই দূরপাল্লার শট থেকে গোল না হওয়ার কথাই আলোচনায় উঠে আসলো। ঋতুপর্ণা বললেন, “ওটা আসলে গোল হলে আমার জীবনের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে মনে রাখতাম। তবে, সব মিলিয়ে আমরা আসলে ভাগ্যবান যে চীনের সঙ্গে খেলতে পেরেছি। তারা ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বকাপে খেলার মতো অভিজ্ঞতা আছে। এমন শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলতে পেরে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সব মিলিয়ে ভালো লাগছে।”
সিডনির প্রবাসী দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এ ফরোয়ার্ড বলেন, “আমরা বাংলাদেশ থেকে একটা লক্ষ্য নিয়েই এসেছি যে, প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে, যে যার পজিশনে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। চীনের বিপক্ষে আমরা আমাদের সেরাটাই দিয়েছি। অবশ্যই এ ম্যাচ আমাদের আগামী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। সিডনির দর্শকদের অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি চাই, তারা আমাদের এভাবেই সমর্থন দিবেন। তাদের সমর্থন পেলে আমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও ভালো ফল উপহার দিতে পারবো।”
ফল নিয়ে খুশি অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। তবে, প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটের মধ্যে হজম করা দুই গোলের মধ্যে দ্বিতীয়টি নিয়ে হতাশা আছে তার। তবে, এ ভুল উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে করতে চান না অধিনায়ক। তিনি বলেন, “আক্ষেপ শুধু আমার একটাতেই, দ্বিতীয় গোলটা নিয়ে। যেহেতু আমার পাশ দিয়েই গোল হয়েছিলো, আমি যদি একটু ঠেকাইতে পারতাম তাহলে আমার এ আক্ষেপ থাকতো না। ঋতুর শটটা সেরা ছিলো। ওদের গোলকিপার তো অনেক লম্বা, এটা ওদের জন্য সুবিধা। তো আমরা ভালো খেলছি, সবাই ভালো খেলেছি।”
আফঈদা বলেন, “যেহেতু আমরা চীনের সঙ্গে লড়াই করেছি, শেষ পর্যন্ত আমরা হাল ছাড়িনি। এ খেলাটা ধরে রাখতে পারলে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই হবে। অবশ্যই, শক্তি যোগাবে পরের ম্যাচগুলোর জন্য। চীন গতবারের চ্যাম্পিয়ন, ভীতি তো একটু ছিলই। ওদের সঙ্গে কীভাবে খেলব, কীভাবে লড়াই করবো। যেহেতু ওদের সঙ্গে লড়াই করতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গেও লড়াই করতে পারবো।”