২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আট মাস বাকি থাকলেও ইতোমধ্যেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। গত ৫ ডিসেম্বর বিশবকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জারি করা কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা বেশকিছু দেশের দল ও সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সংস্থা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এর মধ্যে ১২টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে অর্থাৎ কোনো পরিস্থিতিতেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলোÑআফগানিস্তান, ইরান, সোমালিয়া, লিবিয়া, হাইতি, চাদ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, মিয়ানমার, ইরিত্রিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরান ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যদিও তাদের ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। তবে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন গ্রুপ ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরেছিল।
১২টি দেশের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও আরও সাতটি দেশের ওপর আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ভেনেজুয়েলা, কিউবা, বুরুন্ডি, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো ও তুর্কমেনিস্তান। এসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভ্রমণের ধরনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এমনকি ব্রাজিল আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞায় না থাকলেও, ব্রাজিলীয় নাগরিকদের ভিসা ইস্যুতে সাম্প্রতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর সমর্থকদের জন্য বিশ্বকাপ উপলক্ষে কোনো বিশেষ ছাড় দেয়া হবে না। তবে খেলোয়াড়, কোচ ও প্রয়োজনীয় সহায়ক স্টাফদের ভিসা দেয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। জিউলিয়ানি বলেন, ভিসা ইস্যু একটি জাতীয় নিরাপত্তাজনিত বিষয় এবং প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। জিউলিয়ানির মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও বিশ্বকাপ সময়কালে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকতে পারে। এ অবস্থায় বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে ফিফার ‘বিশ্বকে স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র’-এই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক দেশের সমর্থকরা মাঠে গিয়ে নিজ দলের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও দেশ যুক্ত হতে পারে। মোট সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে-যা ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।