আর্জেন্টাইন ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসির ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা হয়নি। ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে সোমবার নয়াদিল্লি সফরে থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে। তিন দিনের সফরে ভারতে আসা মেসির প্রথম গন্তব্য ছিল কলকাতা। সেখানে সল্টলেক স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতিকে ঘিরে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা গেলেও পরবর্তী দুই শহর হায়দরাবাদ ও মুম্বাইয়ে তার সফর নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়। নয়াদিল্লিতে মেসির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্ধারিত বৈঠকের কথা ছিল। এ জন্য ২১ মিনিটের একটি প্রোটোকলও তৈরি করা হয়েছিল। তবে বৈঠকের আগের দিনই সেটি বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চার দিনের সরকারি সফরে ওমান, ইথিওপিয়া ও জর্ডান যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি ওই তিন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হচ্ছে না, তবু দিল্লিতে মেসির ব্যস্ত সময়সূচি ছিল। সফরকালে তার ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। নয়াদিল্লিতে মেসির সফরের শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয় অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। সেখানে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি একটি কোচিং ক্লিনিক পরিচালনা করবেন এবং মিনার্ভা একাডেমির তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য, মিনার্ভা একাডেমির খেলোয়াড়রা চলতি বছর ইউরোপে তিনটি যুব টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই ভারতে মেসির তিন দিনের সফরের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

এক ফ্রেমে টেন্ডুলকার ও ফুটবল কিংবদন্তি মেসি : কলকাতার অস্বস্তিকর সফর শেষে লিওনেল মেসি পরের দুটি শহরে ঘুরলেন আনন্দ আর উচ্ছ্বাস নিয়ে। ‘জিওএটি ইন্ডিয়া ট্যুর’ কলকাতার অব্যবস্থাপনায় ম্লান হলেও মুম্বাইয়ের ইভেন্ট হয়ে থাকল স্মরণীয়। কারণ ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দুই খেলার দুই কিংবদন্তি একসঙ্গে দাঁড়ালেন একই মঞ্চে। ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার ও ফুটবল জাদুকর মেসি এক ফ্রেমে বন্দি হলেন, যা দেখে চোখের তৃষ্ণা মেটালেন হাজার হাজার ভারতীয় ফুটবল ও ক্রিকেট সমর্থকরা। ওয়াংখেড়ের গ্যালারি থেকে ভেসে এলো ‘মেসি, মেসি’ আর ‘শচীন, শচীন’ স্লোগান।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি ‘সুপার সানডে’। ক্রিকেট নাকি ফুটবল জনপ্রিয়, সেই প্রশ্ন মিলিয়ে গেছে দুই খেলার সবচেয়ে বড় আইকন একসঙ্গে হওয়ার পর। এক্স-এ শচীন লিখেছেন, ‘বলতেই হবে, আজকের দিনটা ছিল ১০/১০ লিও মেসি’। মেসিকে এদিন তিনি ১০ নম্বর টিম ইন্ডিয়ার জার্সি দিয়েছেন, যে সংখ্যাটি মেসির জার্সিরও। ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা কিছু মুহূর্তের সাক্ষী এই ওয়াংখেড়ে। ভারতের ২০১১ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়, বিরাট কোহলির রেকর্ডভাঙ্গা ৫০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি হয়েছে এখানে। আর এটা শচীনের ঘরের মাঠ। আবারো ওয়াংখেড়ে ইতিহাসের পাতায় নাম তোলে দুই কিংবদন্তি একসঙ্গে হওয়ার পর। একটি সেলিব্রেটি ফুটবল ম্যাচ হওয়ার পর মঞ্চে দাঁড়ান মেসি ও তার দুই সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো ডি পল। কিছুক্ষণ পর গ্যালারি থেকে স্লোগান- ‘শচীন, শচীন’। মঞ্চে উঠে ডি পল, সুয়ারেজের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হাসিমুখে তিনি বরণ করে নেন মেসিকে। তারপর নিজের স্বাক্ষরিত ভারতের ক্রিকেট দলের জার্সি উপহার দেন এবং মুখ্যমন্ত্রী, মেসি, পল, সুয়ারেজ এবং শচীন একসঙ্গে ছবি তোলেন। মেসিও শচীনকে একটি বিশ্বকাপ বল দেন।

মেসিকে নিয়ে ভারতের একশ কোটির ব্যবসা! কলকাতায় হট্টগোল, বিশৃঙ্খলায় শুরুতেই কলঙ্কিত হয়েছে মেসির ‘জিওএটি ইন্ডিয়া ট্যুর’। এর প্রেক্ষিতে বিজেপির সাবেক সাংসদ অর্জুন সিং অভিযোগ তুললেন, এলএমটেনকে ভারতে নিয়ে এসে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এ নিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে (ইডি) তদন্তের দাবি জানান তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-কে অর্জুন সিং বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা হয়ত পাঁচ টাকা, এক টাকা দিয়ে প্রতীকীভাবে বুক করা হয়েছে। কিন্তু তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আপত্তি একটা জায়গায় রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের আপত্তি ছিল, ১০ টাকার পানির বোতল বিক্রি হয়েছে ১৫০-২০০ টাকায়। মেসিকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে, তাতে আপত্তি রয়েছে।