যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দোৎসব শুরু হতে বাকি প্রায় পাঁচ মাস। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো থেকে শুরু হবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের আয়োজনে এবারের আসর। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য ৫০ কোটির বেশি আবেদন পেয়েছে ফিফা। বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক এ সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য ফিফার ২১১টি সদস্য দেশ ও অঞ্চলের সমর্থকেরা টিকিটের আবেদন করেছেন। লটারির মাধ্যমে টিকিট বরাদ্দের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে গত মঙ্গলবার। ফিফা জানিয়েছে, আবেদন সফল হয়েছে কি না, তা ‘৫ ফেব্রুয়ারি’র আবেদনকারীদের জানানো হবে। টিকিটের মাত্রাতিরিক্ত দাম নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী নীতিমালাকে কেন্দ্র করে আসন্ন মেগা ইভেন্টে কেমন দর্শক হতে পারে সেই প্রশ্ন উঠেছে। সেসবের মাঝেই ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ ফিফার কাছে টিকিটের জন্য আবেদন করেছেন।

ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, টিকিট পেতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বাইরে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায় বসবাসকারী সমর্থকদের কাছ থেকে। এর আগে টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ৮৬৮০ ডলার (১০ লাখ ৬২ হাজার) পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল ফিফা। মাত্রাতিরিক্ত দাম নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সংস্থাটি গত মাসে নিজেদের অবস্থান পাল্টায়। তখন ফিফা জানায়, টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া ৪৮টি জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের জন্য প্রতিটি ম্যাচে ৬০ ডলারের (৭৩৩৭ টাকা) টিকিট বরাদ্দ রাখা হবে। নিজেদের বিশ্বস্ত সমর্থকদের মাঝে সেসব টিকিট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেবে স্ব স্ব ফেডারেশন।

ফিফার তথ্য মতে, তৃতীয় ধাপের টিকিট বিক্রির সময়কালে (১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত) সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা গেছে কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল ম্যাচকে ঘিরে। আগামী ২৭ জুন ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চাহিদার কেন্দ্রে রয়েছে- ১৮ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল, ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ২ জুলাই টরন্টোতে দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচ। তবে এখনই টিকিটের আবেদনকারীরা বিশ্বকাপ দেখার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। ফিফা বলছে, টিকিটের আবেদন সম্পর্কে নিবন্ধনকৃত ভক্তদের ৫ ফেব্রুয়ারির আগে কোনো ফলাফল জানানো হবে না। যেসব ম্যাচে চাহিদা টিকিট সরবরাহের চেয়ে বেশি হবে, সেখানে লটারির মাধ্যমে টিকিট বরাদ্দ দেয়া হবে।