আরব কাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জর্ডানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মরক্কো। তিন বছর আগে যে লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স রোমাঞ্চ ছড়িয়েছিল, সেই একই মাঠে আবারও জমে উঠল আরেকটি ফাইনাল। নাটকীয়তার ভরা এই ফাইনালকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলে ধরা হচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচে নিজেদের অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের গভীরতা ও জয়ী মানসিকতা দেখায় মরক্কো। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বড় কোনো ফাইনালে ওঠা জর্ডানও সাহস ও দৃঢ়তায় সব প্রত্যাশা ছাপিয়ে যায়। তবে মরক্কো সংকটের মুহূর্তে নিজেদের পরিপক্বতা ও মানসিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে জর্ডানের জাল কাঁপান ওসামা তান্নান। এরপরও মরক্কোর আক্রমণ থেমে থাকেনি। আট মিনিট পর কারিম এল বেরকাউয়ির শক্তিশালী শট ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন জর্ডান গোলরক্ষক। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে জর্ডান। ৩৩তম মিনিটে হুসাম আবু আল দাহাবের হেড দারুণভাবে ঠেকান মরক্কোর গোলরক্ষক মেহদি বেনাবিদ। তবে প্রথমার্ধ শেষ পর্যন্ত এক গোলের লিড নিয়েই ড্রেসিংরুমে যায় মরক্কো। বিরতির পরপরই ম্যাচে সমতা ফেরায় জর্ডান। দ্রুত নেওয়া কর্নার থেকে মোহান্নাদ আবু তাহার ক্রসে ফাঁকায় থাকা আলি ওলওয়ান হেডে গোল করেন। ৬৮তম মিনিটে জর্ডান এগিয়েও যায়। ডি-বক্সে আশরাফ এল মাহদিওইয়ের হ্যান্ডবলের জন্য ভিএআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি।
স্পট কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলি ওলওয়ান। শেষ দিকে ম্যাচে আবার নাটক ফিরে আসে। ৮৭তম মিনিটে মরক্কোর আব্দেররাজ্জাক হামেদ-আল্লাহর শট প্রথমে ঠেকান জর্ডান গোলরক্ষক। ফিরতি বল ভাগ্যক্রমে আবার তার পায়ে এসে পড়ে এবং কাছ থেকে গোল করে সমতা ফেরান তিনি। অফসাইড নিয়ে জর্ডানের আপত্তি থাকলেও ভিএআর দেখে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন রেফারি। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে জর্ডানের সামনে ম্যাচ জেতার সুযোগ এসেছিল। প্রতি-আক্রমণে আলি ওলওয়ান একা গোলরক্ষককে পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই জর্ডান আবার গোলের দেখা পেলেও হ্যান্ডবলের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে শেষ হাসি হাসে মরক্কো। কর্নার থেকে মারওয়ানে সাদানের হেড পোস্টের কাছে পেয়ে যান হামেদ-আল্লাহ।
খুব কাছ থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এরপর আর কোনো গোল না হলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মরক্কো। এর মাধ্যমে আরব কাপে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল দলটি। এর আগে ২০১২ সালে প্রথমবার ফাইনাল খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসলেও মরক্কোর সামনে বিশ্রামের সুযোগ খুব বেশি নেই। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে মাঠে নামতে হবে তাদের। আরব কাপ জিতে বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তাই দিয়ে রাখল মরক্কো।