সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয় এক ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে শেষ মুহূর্তে জোড়া লাল কার্ডের ঘটনাসহ একাধিক বিতর্ক ও উত্তেজনার মুহূর্তে ভরপুর ছিল পুরো খেলা। গতকাল শনিবার মালদ্বীপের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণী লড়াই। দু’দলই আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলেও গ্রুপ শীর্ষে উঠতে জয়ের বিকল্প ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে শেষ পর্যন্ত ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে লাল-সবুজদের। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন ছিল বাংলাদেশ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণাত্মক শুরু করে ভারত। ১৭তম মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বিশাল যাদব। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ, তবে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত গোল। কর্নার থেকে নেয়া সেট-পিসে বল রিয়াদ ফাহিমের কাছে পৌঁছালে দুর্দান্ত ভলিতে জালে পাঠান তিনি। আমেরিকান প্রবাসী রোনান সুলিভানের নেয়া কর্নার থেকেই আসে এই গোল, ফলে ১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। দু’দলই একাধিক আক্রমণ চালালেও কোনো পক্ষই আর গোলের দেখা পায়নি। বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন, বিশেষ করে ৬৩তম মিনিটে ভারতের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নস্যাৎ করেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। যোগ করা সময়ের শেষ ভাগে এক ফাউলকে কেন্দ্র করে মাঠের বাইরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন দু’দলের কোচিং স্টাফরা। এ সময় ভারতের হেড কোচ মহেশ গাউলি হলুদ কার্ড দেখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বাংলাদেশের কোচিং স্টাফ ও ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যার ফলে ম্যাচে জোড়া লাল কার্ড দেখান রেফারি। নাটকীয়তার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দু’দল। এই ফলাফলে গ্রুপে বাংলাদেশ ও ভারতের পয়েন্ট দাঁড়ায় সমান চার করে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত, আর রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হবে, যারা নিজেদের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। অন্য সেমিফাইনালে খেলবে ভুটানের বিপক্ষে ভারত।