বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ছন্দটা যেন ঠিকই খুঁজে পেয়েছে ব্রাজিল। প্রস্তুতি ম্যাচে পানামার বিপক্ষে ৬-২ গোলের বড় জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগই দেয়নি সেলেসাওরা।

রিও ডি জেনেরিওর মারাকানা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাজিল। তার ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি পানামা। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে দুর্ভাগ্যের ছোঁয়ায় কুইয়ার আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে দলটি।

সমতা ফেরার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের হাতেই। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরোর নেতৃত্বে বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে দলটি।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে আবারও ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। ২-১ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

খেলার আসল রোমাঞ্চের দেখা মেলে দ্বিতীয়ার্ধে। সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি গোলরক্ষক ছাড়া বেঞ্চের বাকি ১০ জনকেই নামিয়ে দেন মাঠে। আর এতেই যেন রীতিমত ঝড় নেমে আসে মাঠে। মাত্র ১০ মিনিটে তিনবার বল জড়ালো পানামার জালে। ৫৩ মিনিটে তরুন তুর্কী হায়ান, ৬০ মিনিটে পাকেতা আর ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল উৎসবের স্কোরলাইন ৫-১ করেন থিয়াগো।

গোলের ক্ষুধা তখনও মেটেনি ব্রাজিলের। ৮১ মিনিটে পাকেতার পাস থেকে ডিফেন্ডারকে নাচিয়ে ব্রাজিলের ষষ্ঠ গোলটি করেন দানিলো সান্তোস।

ম্যাচের শেষ দিকে একটি গোল শোধ দেয় পানামা। হার্ভের দূরপাল্লার শটে দ্বিতীয়বারের মতো ব্রাজিলের জাল কাঁপলেও তাতে ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।

শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের এক বিধ্বংসী জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির শিষ্যরা। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে এই জয় যেন প্রতিপক্ষদের জন্য এক হুঙ্কার।