আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন মাঠের খেলার চেয়ে বাইরের উত্তেজনাই বেশি আলোচনায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করেও শেষ পর্যন্ত কোনো সাড়া পায়নি ইরান। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—আগে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই খেলতে হবে তাদের।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেই আবেদন সরাসরি নাকচ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম।

ফিফা জানিয়েছে, এত বড় টুর্নামেন্টের সূচি ও আয়োজন শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। লজিস্টিক ও কৌশলগত বাস্তবতার কারণে নির্ধারিত ভেন্যুতেই ম্যাচগুলো আয়োজন করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় ইরানের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াই ভালো।

এর জবাবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দল যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে না। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি শান্ত করতে সরাসরি উদ্যোগ নেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গত ৩১ মার্চ তুরস্কে ইরানি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি পরিষ্কার করে দেন, “ইরান বিশ্বকাপ খেলবে এবং নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলবে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ফুটবলকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে খেলবে ইরান। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী দলটির সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেই অনুষ্ঠিত হবে।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও ফিফা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে—বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসছে না, খেলা হবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই।