আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল ম্যাচের ঠিক দুই মাস পর শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে সেনেগালের। জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে স্বাগতিক মরক্কোকে। কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) বলেছে, তাদের আপিল বোর্ড সেনেগালকে ফাইনালের অযোগ্য দল ঘোষণা করে রায় দিয়েছে। তাদের অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলের জয় আপনাআপনি স্বাগতিক দেশ মরক্কোর জন্য ৩-০ গোলের জয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ২০২৫-এর শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে সেনেগাল।গত ১৮ জানুয়ারি রাবাতের ফাইনালে কোচ পাপে থিয়াওর নেতৃত্বে সেনেগাল খেলোয়াড়রা স্টপেজ টাইমে প্রতিবাদ জানিয়ে ১৫ মিনিট মাঠের বাইরে ছিল। ভক্তরাও মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। মরক্কোকে পেনাল্টি দেয়ার জেরে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় ম্যাচ গোলশূন্য অবস্থায় ছিল। লম্বা সময় পর মাঠে ফেরে সেনেগাল।
যখন খেলা শুরু হয়, তখন মরক্কো ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজের স্পট কিক রুখে দেন গোলকিপার এদুয়ার্দ মেন্দি। অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের হয়ে একমাত্র গোলটি করে পাপে গায়ে। সেনেগালের মাঠ ছেড়ে যাওয়া এবং বিশৃঙ্খলার জেরে প্রাথমিক শাস্তিমূলক শুনানিতে ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা আরোপ করেছিল সিএএফ। একই সঙ্গে সেনেগাল ও মরক্কোর খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালদের নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ফলাফল অপরিবর্তিত ছিল।
সিএএফ তাদের এই মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের আর্টিকেল ৮২-এর ধারা উল্লেখ করে আপিলের রায়কে বৈধতা দিয়েছে। যদিও প্রথম শুনানিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ধারাটিতে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো কারণে কোনো দল প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, অথবা কোনো ম্যাচে অংশ নিতে না আসে, অথবা খেলতে অস্বীকৃতি জানায় কিংবা রেফারির অনুমতি ছাড়া ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ত্যাগ করেÑ তবে সেই দলকে পরাজিত বিবেচনা করা হবে এবং চলমান প্রতিযোগিতা থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে।’ আপিল বিচারকের রায়ে ১৯৭৬ সালের পর প্রথমবার আফ্রিকান শিরোপা জিতল মরক্কো। সেনেগাল দ্বিতীয় ট্রফি জিতেও হারাল। তিন আসরে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে এটিকে ‘অন্যায্য, নজিরবিহীন এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা আরও বলেছে, এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকান ফুটবলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফেডারেশন জানায়, ‘সেনেগালের ফুটবলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টস-এ আপিল করবো।’ এদিকে, সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। সামনে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক রয়েছে, যেখানে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে, আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের শিরোপা নিয়ে এই বিতর্ক এখন নতুন মোড় নিয়েছে। সেনেগালের আপিলের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে গড়ালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে সময় লাগতে পারে, তবে এই ঘটনাটি আফ্রিকান ফুটবলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।