গাজায় ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ওয়াশিংটনে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গাজার জন্য একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণে ৫ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘ সংঘাতে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা এখনও ধ্বংসস্তূপের ভার বইছে। বাসস্থান, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ মৌলিক অবকাঠামো পুনর্গঠনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে এই ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নতুন করে ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর কেন্দ্র হবে।

শুধু স্টেডিয়ামই নয়, যুব ফুটবলার তৈরির লক্ষ্যে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে একটি ফুটবল একাডেমি গড়ার কথাও জানিয়েছে ফিফা। পাশাপাশি ৫০টি ছোট মাঠ নির্মাণে অতিরিক্ত ২৫ লাখ ডলার এবং পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ নির্মাণে প্রতিটি মাঠে ১০ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ইনফান্তিনো বৈঠকে বলেন, ‘পুনর্গঠন মানে শুধু ভবন তৈরি নয়। মানুষের আশা ও আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে আনতে হবে। ফুটবল সেই শক্তিটাই দেয়।’ গাজা ও পশ্চিম তীর মিলিয়ে গঠিত ফিলিস্তিনি জাতীয় দল ১৯৯৮ সালে ফিফার স্বীকৃতি পায়।

তবে তারা কখনও বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি। ফিফা আশা করছে, নতুন অবকাঠামো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংগঠিতভাবে ফুটবলে সম্পৃক্ত হতে সহায়তা করবে। বোর্ড অব পিসের ওই বৈঠকে একাধিক দেশ গাজা পুনর্বাসন তহবিলে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে সেনা পাঠানোর কথাও জানায় কয়েকটি দেশ।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর যুক্তরাষ্ট্র সফর ও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ বেড়েছে।