চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও ট্রফি হারাতে যাচ্ছে সেনেগাল টেবিলের সিদ্ধান্তে। এমন সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ)। কোনোভাবেই ট্রফি ফেরত দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েও দিয়েছে সেনেগাল। এমন বিতর্কের মাঝেই শনিবার প্যারিসের স্টাদ দ্য ফ্রান্সে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ট্রফি নিয়ে প্যারেড করেছে সেনেগালের ফুটবল দল। প্যারেডের পর পেরুর বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমেছে দেশটির খেলোয়াড়রা দুই তারকাখচিত জার্সি পরে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় নিজেদের চ্যাম্পিয়নশিপ কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি নয় তারা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে সেনেগাল। কিন্তু মাসদুয়েক পর কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) সেনেগালের শিরোপাটি কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করে। এই ঘোষণার পর ফাইনালে মাঠে খেলায় পরাজিত দল মরক্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়, সেনেগাল যদি নিজেদের চ্যাম্পিয়ন দাবি করে দর্শকদের সামনে ট্রফি প্রদর্শন করে তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু সেই হুমকিকে মোটেও আমলে নেয়নি সেনেগাল। এএফপি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় স্তাদ দ্য ফ্রান্সে সেনেগাল-পেরু ম্যাচের আগে । সেখানেই দেশটির অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির নেতৃত্বে সেনেগাল মাঠে নামে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ট্রফি নিয়ে। পুরো দলসহ মাঠের চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দি এটি হাতে নিয়ে। গত ১৮ জানুয়ারি সিএএফের রায়ে পেনাল্টির আগে সেনেগাল দলের আচরণ টুর্নামেন্টের ৮২ ও ৮৪ নম্বর ধারার লঙ্ঘন। ফলে ম্যাচটি সেনেগালের জন্য পরিত্যক্ত করে মরক্কোকে ৩-০ ব্যবধানে বিজয়ী ও চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। যার প্রতিবাদে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে সেনেগাল। ফ্রান্সে পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে ‘স্টাদ দে ফ্রঁস’-এ হাজার হাজার দর্শকের সামনে ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রা করে সেনেগাল। প্যারেডের নেতৃত্বে ছিলেন অধিনায়ক কালিদু কুলিবালি ও গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। দলের বাকি খেলোয়াড়রাও এতে অংশ নেন। ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না সাদিও মানে। তবে গ্যালারিতে সেনেগালিজ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। প্যারিসের উপশহর সাঁ-দেনিসে বিপুল সংখ্যক সেনেগালিজ প্রবাসীর বসবাস। তাদের সঙ্গে ট্রফির আনন্দ ভাগ করে নিতেই এমন আয়োজন করে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। যদিও আইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এই আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে সিএএফ-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করেছে দেশটি। গত জানুয়ারিতে রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। কিন্তু রেফারির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাদের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল সপ্তাহখানেক আগে সেই ট্রফি কেড়ে নেয় ও মরক্কোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করেছে সেনেগালিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাতে ট্রফি চূড়ান্তভাবে কার হাতে উঠছে, সেই বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। কদিন আগে ফ্রান্সের রাজধানীতে সেনেগালিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুলায়ে ফল বলেছিলেন, ফুটবল ইতিহাসের ‘সবচেয়ে জঘন্য ও অন্যায্য প্রশাসনিক ডাকাতির’ শিকার হয়েছে সেনেগাল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ক্রীড়া আদালতে দেশটি তার খেলোয়াড়দের সম্মান রক্ষায় লড়বে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। সিএএস-এ আপিলের শুনানি হতে সাধারণত কয়েক মাস লেগে যায় এবং এর রায় হতে আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাসের অপেক্ষা। সেনেগালের আইনজীবীরা সিএএস-কে দ্রুততর প্রক্রিয়া শুরু করতে অনুরোধ করবেন এবং তাদের আশা, এই রায় দুই মাসের মধ্যে যেন মামলাটির নিষ্পত্তি হয় সেই ব্যাপারে সম্মতি দেবে মরক্কান ফেডারেশন ও সিএএফ।