নারী ফুটবলের এশিয়ান আসরে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার কমব্যাংক স্টেডিয়ামে-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে উত্তর কোরিয়া।

ম্যাচের শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। গোলরক্ষক মিলি আক্তারের দৃঢ়তা, রক্ষণভাগের চেষ্টার পাশাপাশি কিছুটা ভাগ্যও প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় দলটিকে লড়াইয়ে রাখে। তবে বিরতির ঠিক আগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে উত্তর কোরিয়া। পঞ্চম মিনিটেই প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড একক সুযোগ পেলেও তা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মিলি। পরবর্তী কয়েক মিনিটেও একাধিক আক্রমণ প্রতিহত করে বাংলাদেশ রক্ষণভাগ।

চতুর্দশ মিনিটে উত্তর কোরিয়া একবার জালে বল পাঠালেও ভিএআর যাচাইয়ের পর হ্যান্ডবলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। এরপরও চাপ অব্যাহত রাখে প্রতিপক্ষ দল। কর্নার থেকে আসা হেড এবং ফিরতি শটও ঠেকিয়ে দেন মিলি আক্তার।

৩৮তম মিনিটে আবারও ভাগ্য সহায় হয় বাংলাদেশের। উত্তর কোরিয়ার একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। একই সময়ে পেনাল্টির দাবিও ওঠে, তবে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্ত যায় বাংলাদেশের পক্ষেই।

তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করেন উত্তর কোরিয়ার মিয়ং ইউ জং। এর কিছুক্ষণ পর কিম কিয়ং ইয়ং দূরের পোস্টে কোনাকুণি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় উত্তর কোরিয়া। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে থাকা এই দলটির আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দার জুটি সেভাবে প্রভাব ফেলতে না পারায় আক্রমণভাগে বলের জোগান কমে যায়।

৬২তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে তৃতীয় গোলটি হজম করে বাংলাদেশ। এর এক মিনিট পর আরও একটি গোল করে ব্যবধান বাড়ায় উত্তর কোরিয়া। ম্যাচের শেষদিকে যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে তারা।

এই হারের ফলে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর আগে প্রথম ম্যাচেও চীন–এর কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আগামী সোমবার উজবেকিস্তান–এর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। শেষ আটে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখতে সেই ম্যাচে জয় পাওয়াই এখন দলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।