নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে লড়াই করেই হেরেছে বাংলার মেয়েরা। এর আগে ১৯৮০ সালে সর্বশেষ এশিয়ান কাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে সেটা ছিল পুরুষদের আসর। এরপর আর খেলা হয়নি। পুরুষ দল না পারলেও ৪৬ বছর পর এবারই প্রথম মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ নারী দল খেলছে। প্রথম ম্যাচে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা চীনের দলটির বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা চাকমারা। গতকাল মঙ্গলবার সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে অনষ্টিত ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও ১৭ তম অব¯’ানে থাকা দলটির বিপক্ষে ১১২তম অবস্থানে থেকে বাংলাদেশের মেয়েরা দারুণ পারফর্ম করেছে। প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যায় চীন। গোল দুটি করেছেন মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং ও ঝ্যাং রুই। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের ১০ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ফেলে দিয়ে হলুদ কার্ড দেখলেন চীনের ডিফেন্ডার লু ইয়াটং। দু‘মিনিট পার্থক্যে চীনের একটি সংঘবদ্ধ আক্রমন রক্ষনভাগের দৃড়তায় রক্ষা পায়। কিছুক্ষণ পর সুযোগ পেয়ে যায় বাংলাদেশও। ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাঁ উইং ফাঁকা পেয়ে যান বাংলাদেশের তারকা উইঙ্গার ঋতুপর্না। গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে নিয়েই বাঁ পায়ের দুরপাল্লার শট নেন। বলটা বাতাসে ভাসতে ভাসতে গোলপোস্টে ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্তে শূন্যে লাফিয়ে ঠেকিয়ে দেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। ১৮তম মিনিটে ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের দৃঢ়তায় আবারও রক্ষা পায় বাংলাদেশ। ২৪ মিনিটে বাংলাদেশের জালে বল জড়ালেও ভিএআর দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে হালকা চোটে পেয়ে ৩৭ মিনিটেই ফেরেন ঋতুপর্ণা। ম্যাচের ৪১ মিনিটে কর্নার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বাঘিনীরা। এর ৩ মিনিটের মাথায় ঠিকই গোল আদায় করে নেয় চীন। দুরপাল্লার শটে গোল করলেন ওয়াং সুয়াং। ২ মিনিট পর আবারও বাংলাদেশের জালে গোল। এবার ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধে চীন বল দখলে রেখেছে ৬৩.৩ শতাংশ। বাংলাদেশ বল দখলে রেখেছে ৩৬.৭ শতাংশ। মোট ১৩টি শট নিয়েছে চীন। এর মধ্যে ৭টি শট ছিল পোস্টে। মোট ৩টি শট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। ২টি শট ছিল পোস্টে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাধিক পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। ৪৬ মিনিটে ঋতুপর্ণার ৩৬ গজ দূর থেকে নেয়া শট চীনের পোস্টের পাশ ঘেঁষে চলে যায়। এই সময় একাধিক আক্রমণ করেও গোল আদায় করতে পারেনি চীন। মিলি আক্তারের দৃঢ়তায় একবার গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। যোগ করা ৮ মিনিটেও দাপট দেখায় চীন। তবে কাক্সিক্ষত গোল আর আদায় করতে পারেনি তারা।

বাংলাদেশ একাদশ : শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, নবিরন খাতুন, মিলি আক্তার ও উমেহ্লা মারমা।

চীনের একাদশ : চেন চেন, ওয়াং লিনলিন, উ হাইয়ান, ঝ্যাং চেংজু, লু ইয়াটং, ওয়াং সুয়াং, ওয়াং আইফাং, লিউ জিং, ঝ্যাং রুই, উরিংগুমুলা, জিন কুন।