১১ দলের অংশগ্রহনে দেড় বছর পর মাঠে গড়াতে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ নারী ফুটবল লিগ। আজ সোমবার কমলাপুরস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে বিকেল সাড়ে তিনটায় বাংলাদেশ পুলিশ এফসি মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিমিটেডের। সর্বশেষ এই আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ওই বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি। এবার অনেকটা তড়িঘড়ি করে লিগ আয়োজনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কেননা আগামী বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ খেলবে বাংলাদেশ সিনিয়র নারী দল। পরের মাসে থাইল্যান্ডে হবে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের লড়াই। ওই টুর্নামেন্টেও খেলবেন মোসাম্মত স্বাগরিকা, মুনকি আক্তাররা। এদিকে দেশের শির্ষ ক্লাব মোহামেডান আবাহনী ছাড়াই এবারের লিগে অংশ নিচ্ছে ১১টি ক্লাব দল। এবার প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য বজায় রাখতে বাফুফে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পুলে রেখেছে ৩৬ জন খেলোয়াড়। নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলো পট-১ থেকে পাঁচজন (১৩ জন সিনিয়র), পট-২ থেকে পাঁচজন (১৮ জন বয়সভিত্তিক) এবং পট-৩ থেকে একজন গোলরক্ষক দলে নিতে পারবে। এক মাসব্যাপী টুর্নামেন্টের জন্য ১৪ দিনের ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ হয় ২৭ ডিসেম্বর।

যদি ও কথা উঠেছে ১১ দলের এই লিগে হাতে গোনা কয়েকটি মানসম্পন্ন দল হলেও বাকিগুলো অনেকটাই গড়পড়তা। গত ২৭ ডিসেম্বর ছিল খেলোয়াড় দলবদলের শেষ সময়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বেধে দেয়া ঐ সময়ের মধ্যে দল গুছিয়েছে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলো। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন একাডেমি আর্থিক সংকটের কারনে শক্তিশালী দল গঠন করতে পারেনি। এবারের দলবদলে আলোচনায় উঠে এসেছে ফরাশগঞ্জ ও নবাগত রাজশাহী স্টারস। নাবিল গ্রুপের অর্থায়নে গঠিত রাজশাহীর দলটি অভিষেকেই বড় লক্ষ্য নিয়ে তারা নামছে এরই মধ্যে জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার ও তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমাকে দলে টেনে শিরোপার লড়াইয়ে নামার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। নতুন দল বাংলাদেশ পুলিশ নারী এফসি আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে মাঝারি মানের দল গুছিয়েছে। শেষ মুহূর্তে চমক দেখিয়ে পুরনো ঢাকার ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব দলে ভিড়িয়েছে জাতীয় দলের পাঁচজন তারকা ফুটবলারÑ তহুরা খাতুন, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা এবং শামসুন্নাহার সিনিয়র ও শামসুন্নাহার জুনিয়র।এছাড়া বাংলাদেশ আর্মি, আনসার ও ভিডিপি এবং বিকেএসপি মূলত নিজেদের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করবে, যদিও আনসার ও ভিডিপি দলে কয়েকজন জাতীয় দলের সদস্য থাকছে।

বিগত সময় নারী ফুটবল লিগ মানে ছিল অনেক ম্যাচে গোলবন্যা। মার্চে এশিয়া কাপ শুরুর আগে তাই ঋতুপর্ণা-আফিদারা কতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের মধ্য দিয়ে যাবেন, উঠছে সেই প্রশ্নই। ৫ ডিসেম্বর সাফ নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছিল। ঐ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ক্লাব নাসরিন স্পোর্টিং জাতীয় দলের ফুটবলারদের নিয়ে খেলতে চেয়েছিল। জাতীয় দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার ও ফেডারেশন ফুটবলারদের ছাড়েনি। কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল এশিয়া কাপের প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্টের মান।

সাফ ক্লাব কাপে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভূটানের খেলোয়াড় থাকলেও বাফুফে ফুটবলারদের ছাড়েনি। অথচ সপ্তাহ তিনেক পরই ঘরোয়া লিগের জন্য ঋতুপর্ণাদের উন্মুক্ত করেছে। এই বৈপরীত্য কেন? এদিকে রোববার বাফুফে নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে বলেন, ‘এই প্রশ্ন বাটলারকেই করা উচিত।’ সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে নাসরিন স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হলে বাংলাদেশের অর্জন হতো। জাতীয় ফুটবলাররা ঐ টুর্নামেন্টে খেলতে পারলে তাদেরও প্রস্তুতি হতো। এই বিষয়ে কিরণ বলেন, ‘ওখানে খেলোয়াড় ছাড়া হলে দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসত। অবশ্যই দেশের সম্মানও বাড়ত। আমি এ নিয়ে অনেক কথাও বলেছি। পিটার ছাড়াও বেশকিছু ইস্যু সেখানে ছিল। যা আমি বলব না, এখন লিগ নিয়েই কথা বলছি।’

ত্রিদেশীয় সিরিজের পরপরই ছিল সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ। ঋতুপর্ণা-আফিদাদের সেই টুর্নামেন্ট পিটার খেলতে না দেয়ার কারণ প্রসঙ্গে কিরণ বলেন, ‘তার (পিটার) কথা হচ্ছে, অন্য কোনো কোচের অধীনে খেলতে দেবে না।’ সাফ ক্লাব কাপে অন্য কোচের অধীনে দিতে রাজি হয়নি, অথচ তিন সপ্তাহ পরেই ঘরোয়া ফুটবল লিগে অন্য কোচের অধীনে খেলছে। যেখানে সব দলে সমান যোগ্যতা-সম্পন্ন কোচ, সুযোগ-সুবিধা নেই। ভূটান লিগে খেলা কয়েকজন ফুটবলারের ফিটনেসে ঘাটতি চোখে পড়েছিল সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ড ম্যাচে। মার্চে এশিয়া কাপের মাত্র এক মাস আগে ঘরোয়া লিগ শেষ হবে। ফলে ফিটনেস-পারফরম্যান্স অনেক কিছুই শঙ্কার মধ্যে। এ নিয়ে কিরণের মন্তব্য, ‘‘এখন আসলে পিটারকে জিজ্ঞেস করব। অন্য কোচের অধীনে এখন গেল, আগে দেওয়া হয়নি কেন?’’ উল্লেখ্য পিটার বাটলার ২০ ডিসেম্বর বড় দিনের ছুটিতে ইংল্যান্ড গেছেন। ৪ জানুয়ারি ফেরার কথা। পিটার বাটলার কোচ হিসেবে পরিকল্পনা দিলেও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাফুফে সেটার ব্যাখ্যা-যৌক্তিকতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব। সাম্প্রতিক দুই ঘটনায় দুই রকম অবস্থানে বাটলারকে সঠিক জবাবদিহি ও তদারকি কতটুকু করছে ফেডারেশন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফুটবলাঙ্গনে।