পুরো নাম জন ফিলিক্স অ্যান্থনিও সিনা হলেও বিখ্যাত আমেরিকান পেশাদার এই কুস্তিগীর বিশ্বব্যাপী পরিচিত জন সিনা নামেই। ১৯৭৭ সালের ২৩ এপ্রিল আমেরিকায় জন্ম নেয়া এই কুস্তিগীর, অভিনেতা ও র‌্যাপার হিসেবেও জনপ্রীয়তা পেয়েছেন। তিনি রেকর্ড ১৭ বারের ডাব্লিউডাব্লিউই ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন। তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা পেশাদার কুস্তিগীর হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশে জন সিনার অনেক ভক্ত-সমর্থক রয়েছে।বিশ্ব বরেন্য এই ক্রীড়াবিদ ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন শনিবার। যদিও শেষটা সমর্থকদের মন ভরাতে পারেনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ডব্লিউডব্লিউই-র পরিচিত মুখ জন সিনার শেষ ম্যাচটি হলো করুণ পরাজয়ে। গত বছরই রেসলিং থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন জন সিনা। আর এই বছরের শেষভাগে তা বাস্তবায়ন করলেন। শনিবার দুই দশকের বেশি সময় ধরে ডব্লিউডব্লিউই-র পরিচিত মুখ জন সিনা স্যাটার্ডে নাইট’স মেইন ইভেন্টে গান্তারের সঙ্গে শেষ লড়াই করেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ হলো বিব্রতকর হারে, তাও আবার ট্যাপ আউট করে। প্রায় দুই দশকে এই প্রথম সিনাকে এভাবে আত্মসমর্পণ করতে দেখা গেল। যা ছিল সমর্থকদের কাছে হতাশার। প্রিয় রেসলারের এমন সমাপ্তি মানতে পারেননি দর্শকরা। ক্যাপিটাল ওয়ান এরেনায় উপ¯ি’ত দর্শকদের একাংশ বিস্মিত, একাংশ ক্ষুব্ধ। খেলা শেষ হওয়ার পর গান্তারকে বাড়তি নিরাপত্তা নিয়ে মঞ্চ ছাড়তে হয়েছে। দুয়োয় তাকে ধুয়ে দিয়েছেন সমর্থকরা। ম্যাচটা শুরু থেকেই ছিল টানটান। প্রথমে রিংয়ে আসেন গান্তার। তার জন্য প্রথম দফাতেই গ্যালারি জুড়ে দুয়ো। তার কিছুক্ষণ পরেই রিংয়ে সিনার প্রবেশ, আইকনিক থিমে ফেটে পড়ে চারপাশ। ১৭ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তার শেষ যুদ্ধে নামতেই গ্যালারি আবেগে ফেটে পড়ে। রিংয়ের ভেতর শুরু থেকেই আধিপত্য দেখান গাš’ার। সিনার ফাইভ নকল শাফল, এসটিএফ একাধিক ট্রেডমার্ক মুভে দর্শক ভাবতে শুরু করে, হয়তো শেষটা অন্যরকম হবে। কিন্তু গান্তার নিয়ন্ত্রণ ফেরান। স্লিপার হোল্ডে প্রায় অচেতন করে দেন সিনাকে। মাঝপথে সিনা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও শেষ মুহূর্তে ট্যাপ আউট করেন। এরেনায় নেমে আসে স্তব্ধতা। ম্যাচের পর রিংয়ে আসেন অন্য রেসলাররা- কার্ট অ্যাঙ্গল, মার্ক হেনরি, রব ভ্যান ড্যাম, ট্রিশ স্ট্রাটাস, মিশেল ম্যাকুল। ভিডিওতে ফিরে দেখা হয় সিনার ক্যারিয়ার। এরপর রিংয়ের মাঝখানে নিজের বুট রেখে দেন সিনা। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে স্যালুট দিয়ে বলেন, ‘এত বছর ধরে আপনাদের জন্য কাজ করতে পেরে আনন্দিত, ধন্যবাদ।’ ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানা গেছে, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে জন সিনা দ্বিতীয়। বড় ভাই (স্টিভেন) এবং তিনজন ছোট ভাই(ড্যান,ম্যাট ও শন) রয়েছে। তিনি ১৯৯৮ সালে স্প্রিংফিল্ড কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। জন সিনা একজন জাপানিজ এনিম এর ভক্ত এবং তার প্রিয় এনিম সিনেমার নাম ফার্স্ট অব দ্য নর্থ স্টার। ২০০৯ সালে তার গার্লফ্রেন্ড এলিজাবেথের সঙ্গে তার এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হয় এবং ২০০৯ সালের ১১ জুলাই তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ২০১২ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ২০১২ সালের নভেম্বরে সিনা নিক্কি বেলার সাথে সম্পর্ক শুরু করেন। জন সিনা কুস্তিতে আসার পূর্বে বডি বিল্ডার ছিলেন। তিনি কুস্তি ছাড়াও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে জড়িত আছেন। মেইক-এ-উইশ ফাউন্ডেশন এর ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বেশি ইচ্ছা পূরণ করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন হলিউড ছবিতেও কাজ করেছেন। এছাড়াও জন সিনা পাঁচবারের ডাব্লিউ ডাব্লিউ ই ইউনাইটেড স্টেটস চ্যাম্পিয়ন চারবারের ডাব্লিউডাব্লিউই র ট্যাগ টিম চ্যাম্পিয়নশিপ তেরো বারের ডাব্লিউ ডাব্লিউ ই চ্যাম্পিয়ন ও তিনবারের ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন, ২০১২ মানি ইন দ্য ব্যাংক, রয়্যাল রাম্বল (২০০৮), (২০১৩) জয়ী।