কোনো দেশের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ মেলেনি। নিজেদের শক্তি, দুর্বলতা তাই যাচাই করে নেওয়া হয়নি ষোলআনা। প্রস্তুতির কমতিটুকু মেনে নিয়েই বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দলের কোচ জাহিদ হোসেন রাজু দেখছেন এশিয়ান গেমসে খেলার বড় স্বপ্ন। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে এশিয়ান গেমস হকি ইভেন্টের নারী বিভাগের বাছাই। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ পাবে আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানে হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে, হংকং ও উজবেকিস্তান। বাছাইয়ের উদ্বোধনী দিনেই চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ২৪ এপ্রিল উজবেকিস্তান ও ২৬ এপ্রিল হংকংয়ের বিপক্ষে খেলবে দল।
বাছাই উপলক্ষে এরই মধ্যে ১৮ জনের চূড়ান্ত দল দিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। প্রথমবারের মতো এই বাছাইয়ে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সাথে আলাপচারিতায় কোচ রাজু বললেন, এশিয়ান গেমসে খেলার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার জাকার্তার উদ্দেশে উড়াল দেবেন তারা। ‘প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কমতি আছে বটে, কিন্তু আমরা প্রস্তুতিতে ত্রুটি রাখিনি। প্রতিপক্ষরা অভিজ্ঞ, বিশেষ করে চাইনিজ তাইপে। অন্যদেরও সিনিয়র-জুনিয়র দল আছে। আমরা তাদের আগের ম্যাচগুলোর ভিডিও দেখছি, পর্যালোচনা করছি, শক্তি-দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো হত, কিন্তু সেটা হয়নি বলে তো আর বসে থাকলে চলবে না। সীমাবদ্ধতাটুকু মেনে নিয়েই খেলতে হবে আমাদের।’
‘আমাদের মেয়েদের শারীরিক সক্ষমতা ভালো। ওদের ফিটনেস নিয়ে কোনো চিন্তা নেই আমার। মেয়েদের অভিজ্ঞতা কম। তবে, নিজেদের মধ্যে খেলে মেয়েরা অনেক উন্নতি করেছে। কিছু মেয়েরা বিকেএসপিতে নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে থাকে, কেউ কেউ ক্যাম্পে থেকে অনুশীলন করেছে। প্রস্তুতিতে তাই তেমন বিরতি পড়েনি। বয়সভিত্তিক পর্যায়েও খেলার অভিজ্ঞতা আছে অনেকের। মেয়েদের মধ্যে বাছাইয়ে ভালো করার তীব্র আকাঙ্খা আছে। বাছাই পেরুনোর স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে মেয়েরা। আমার বিশ্বাস, কাজটা কঠিন হলেও মেয়েরা পারবে।’ বাংলাদেশ নারী হকি দল: মহুয়া, হিমাদ্রী বড়ুয়া সুখ, নীলাদ্রী বড়ুয়া নীল, রিয়াশা আক্তার রিশি, নিনিসেন রাখাইন, তন্নী খাতুন, ডনুচিং মার্মা, রিতু আক্তার, নাদিরা, অর্পিতা পাল, ফারদিয়া আক্তার রাত্রি, শারিকা সাফা, ফাতেমা তুজ্জোহরা, আইরিন আক্তার রিয়া, নাদিরা তালুকদার ইমা, কণা আক্তার, জাকিয়া আফরোজ লিমা ও সানজিদা আক্তার মনি।