জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত দেশের ক্রীড়া পাক্ষিক ম্যাগাজিন ক্রীড়াজগত এর সম্পাদক হিসেবে মাহমুদ হোসেন খান দুলাল অবসরে গেলেন। গতকাল বুধবার সরকারি চাকরি নিয়ম অনুযায়ী ৫৯ বছর বয়সে অবসরকালীন ছুটিতে গেলেন তিনি। ২ নভেম্বর ১৯৯৬ সাল যোগদান করেছিলেন। যিনি দুলাল মাহমুদ নামে ক্রীড়াঙ্গন ও গণমাধ্যমে বিশেষ পরিচিত। গতকাল দুলাল মাহমুদের আনুষ্ঠানিক শেষ কর্ম দিবস হওয়ায় সকাল থেকে ক্রীড়াজগত অফিসে ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই এসেছেন। কেউ এসেছেন ফুলের তোড়া নিয়ে, কেউ ক্রেস্ট। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকবৃন্দ ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই বেশ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় জানিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনে সবার প্রিয় দুলাল মাহমুদকে, যার লেখায় ইতিহাস-যুক্তি ধারালো ও ব্যাপক গভীরতা থাকলেও তার কথা একেবারেই উল্টো। অত্যন্ত নরম ও মিষ্টিসুরে। বিদায়ের দিনে সেটা আরও নরম ও মায়াবী, ‘ক্রীড়াজগত আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্রীড়াজগত ভালো থাকলে দূর থেকেও আমি শান্তি পাব। আপনারা আমার পরবর্তী জীবনের জন্য দোয়া করবেন এবং ক্রীড়াজগতের পাশে থাকবেন।’ ১৯৯৬ সালে সম্পাদক হলেও ১৯৮২ সালে ক্রীড়াজগতে তার প্রথম লেখা প্রকাশ হয়। এরপর ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেন। বাংলার বাণী, দৈনিক আজাদে কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালের ২ নভেম্বর সম্পাদক হিসেবে ক্রীড়াজগতে যোগদান করেন। এরপর ক্রীড়াজগতই তার জীবন। টানা ২৯ বছর কাটিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনের নিচতলা কক্ষে। ১৯৭৭ সাল থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে প্রকাশিত হচ্ছে পাক্ষিক ক্রীড়া ম্যাগাজিন ক্রীড়াজগত। তৌফিক আজিজ খান, বদিউজ্জামান, শামসুদ্দিন মেহেদীর পর চতুর্থ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার সাথে ২৯ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ইতি টানলেন। দেশের অনেক ক্রীড়া সাংবাদিকের হাতেখড়ি ক্রীড়াজগতে লেখালেখির মধ্য দিয়ে। যারা এখন অনেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত ক্রীড়া সাংবাদিক। অনেকে ক্রীড়া সাংবাদিকতা থেকে অন্য পেশা, অন্য বিটের রিপোর্টিংয়ে গেলেও ক্রীড়াজগতে লেখালেখির মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। নতুন ক্রীড়া লেখক ও সাংবাদিক তৈরির পাশাপাশি পুরোনোদের ধরে রাখাটাও দুলাল মাহমুদের অনন্য গুণ।

শুধু ক্রীড়া লেখক নয় ক্রীড়াবিদদেরও তিনি লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ বশির আহমেদ, রণজিৎ দাস সহ আরও অনেকে ধারাবাহিকভাবে ক্রীড়াজগতে লিখেছেন, যার নেপথ্যে দুলাল মাহমুদ। ক্রীড়াজগতের ‘মাঠ-গ্যালারি-স্টেডিয়াম’ কলাম ক্রীড়াঙ্গনে বেশ সমাদৃত। বর্ষীয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান দুই দশকের বেশি সময় ধরে লিখেছেন। এটিও অনন্য এক বিষয়। কোনো পত্রিকায় একটানা প্রায় ২৫ বছর একজন লেখক এক বিষয়ে কলাম লেখার ঘটনা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। কামরুজ্জামান এখন অসুস্থ হওয়ায় এতে খানিকটা ছেদ পড়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। সম্পাদক দুলাল মাহমুদের চেয়ে গবেষক, ক্রীড়া লেখক দুলাল মাহমুদের বিস্তৃতি যেন আরও বেশি। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে গবেষণা, ইতিহাস-তথ্য ভিত্তিক বই খুবই কম।