২০২৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের পদক তৈরিতে ত্রুটি দেখা দেয়ায় বিব্রতকর ঘটনার মুখে পড়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ইতালির মিলান ও কোরতিনায় অনুষ্ঠিতব্য এই অলিম্পিক গেমসের স্বর্ণ, রুপা ও ব্রোঞ্জ সব ধরনের পদকেই ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যা বিজয়ী অ্যাথলেটদের গলায় পরানোর পরপরই ভেঙ্গে পড়ছে যাচ্ছে। একাধিক অ্যাথলেটের এমন অভিযোগের পর গত সোমবার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, পদকের ফিতায় ফাটল ধরছে, ফিতা ছিঁড়ে যাচ্ছে কিংবা পদকের অংশবিশেষ ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে কখনো কখনো জয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই। যুক্তরাষ্ট্রের ডাউনহিল স্কিইং চ্যাম্পিয়ন ব্রিজি জনসন জানান, পোডিয়ামে পদক নেয়ার পর আনন্দে লাফানোর সময় হঠাৎ করেই পদকটি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে ভাঙ্গা পদক হাতে নিয়ে নিজের হতাশার কথাও জানান তিনি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ফিগার স্কেটিংয়ের দলগত ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী অ্যালিসা লিউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে তার পদক আর অন্য হাতে ছিঁড়ে যাওয়া ফিতা। মজার ছলে তিনি লেখেন, আমার পদকের আর ফিতার প্রয়োজন নেই। সুইডেনের ক্রস-কান্ট্রি স্কিয়ার এব্বা অ্যান্ডারসন জানান, বরফের ওপর পড়ামাত্রই তার পদকটি দুই টুকরো হয়ে যায়। রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘আশা করি আয়োজকদের কাছে ভাঙ্গা পদকগুলোর জন্য কোনো প্ল্যান বি আছে।’ জার্মানির ব্রোঞ্জজয়ী বায়াথলন দলের কয়েকজন অ্যাথলেটও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হোটেলে উদ্যাপনের সময় এক অ্যাথলেটের গলার ফিতা ছিঁড়ে পদকটি নিচে পড়ে যাচ্ছে। মিলান-কোরতিনা ২০২৬-এর প্রধান গেমস অপারেশনস অফিসার আন্দ্রেয়া ফ্রানচিসি বলেন, আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। কী কারণে এমনটি ঘটছে, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে আয়োজকেরা ধারণা করছেন, পদকের ফিতার কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, পদকের ফিতায় একটি ‘ব্রেকঅ্যাওয়ে মেকানিজম’ থাকে যা গলায় হঠাৎ জোরে টান লাগলে খুলে গিয়ে দুর্ঘটনা এড়ায়। তবে পদকগুলো তুলনামূলকভাবে ভারী হওয়ায় সেই ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক কমিটি জানিয়েছে, তারা আয়োজকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ত্রুটিপূর্ণ পদক বদল করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পদকের মান নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকেও রং চটে যাওয়া ও মানের ত্রুটির অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২২০টি পদক বদলের আবেদন জমা পড়েছিল।