নতুন বছরে নতুন ভেন্যুতে গড়িয়েছে ভারতীয় ওপেন ব্যাডমিন্টন। তবে সেখানকার পরিবেশ নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। নিরাপত্তা ও পরিবেশগত উদ্বেগ ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিব্রতকর পরিস্থিতি যেন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ক্রিকেটে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে অনাগ্রহের ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ব্যাটমিন্টনেও বড় ধাক্কা খেল আয়োজক দেশ ভারত। চলমান ইন্ডিয়ান ওপেন ব্যাটমিন্টন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিশ্বের তিন নম্বর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়, ডেনমার্কের অ্যান্ডার্স অ্যান্টনসেন। নয়াদিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণকেই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ড্যানিশ তারকা। টানা তৃতীয় বছরের মতো সুপার ৭৫০ ক্যাটাগরির এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে না খেলার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ফলে শীতকালীন মৌসুমে ভারতের রাজধানী শহর আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে কতটা উপযোগী- তা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ওপেনে সেমিফাইনালে খেলা অ্যান্টনসেন দিল্লির পরিবেশ নিয়ে কোনো ধরনের রাখঢাক না করেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন, যেখানে দূষণের মাত্রা ছিল ৩০০ থেকে ৪০০-এর মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রা ‘অত্যন্ত খারাপ’ থেকে ‘ভয়াবহ’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। পোস্টে অ্যান্টনসেন লেখেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি পেশাদার ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের (বিডব্লিউএফ) নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১৫ একক খেলোয়াড়ের জন্য সুপার ৭৫০ ইভেন্টে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। অংশ না নিলে গুনতে হয় আর্থিক জরিমানা। সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন অ্যান্টনসেন। র্যাঙ্কিং বা পয়েন্টের চেয়ে সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি আবারও ৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হন।
ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে অ্যান্টনসেন লেখেন, এই মুহূর্তে এখানে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজনের মতো পরিবেশ আছে বলে আমি মনে করি না। আশা করি, গ্রীষ্মকালে যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে, তখন পরিস্থিতি ভালো থাকবে।তবে শুধু অ্যান্টনসেনই নন, দিল্লির পরিবেশ নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন তার স্বদেশি আরেক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ব্লিশফেল্ট, কানাডা ও থাইল্যান্ডের সাবেক দুই তারকাও ঠান্ডা আবহাওয়ায় ওয়ার্ম-আপ করা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কানাডিয়ান শীর্ষ শাটলার মিশেল লিও নতুন স্টেডিয়াম নিয়ে বলেন, ‘ভেন্যুটি বেশ ঠান্ডা। এখানে ওয়ার্ম-আপ করা কঠিন। স্টেডিয়াম বড় হওয়ায় বাতাসের প্রবাহ বেশি এবং আগের ভেন্যুর তুলনায় ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।’ একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন থাইল্যান্ডের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রাচানক ইন্তাননও, ‘কোর্টে নামার আগে শরীর ভালোভাবে গরম রাখা দরকার। কিন্তু এখানে এখনও খুব ঠান্ডা। সেজন্য হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে।’
ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ শেষে ব্লিশফেল্ট প্রকাশ্যে ভেন্যুটির কঠোর সমালোচনা করেছেন। স্টেডিয়ামের পরিসর ও অবকাঠামোর প্রশংসা করলেও পরিবেশকে তিনি ‘অস্বাস্থ্যকর’ ও ‘অপেশাদার’ বলে আখ্যা দেন। এমনকি হলের ভেতরে পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং পাখির বিষ্ঠা থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।