মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পাল্টা জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলের মাটিতে হামলা চালাচ্ছে। ঠিক সেই ক্ষত না শুকাতেই নারী এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইরানি মেয়েরা। অস্ট্রেলিয়ার গোলকোস্ট শহরে অনুষ্টিত এই ম্যাচে ৩-০ গোলে হারলেও র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪৭ ধাপ এগিয়া থাকা দলটির বিপক্ষে কঠিন লড়াই করেছে ইরানিরা। কোরিয়ার মেয়েদের বিপক্ষে তিন গোল হজম করে টুর্নামেন্ট শুরু করল তারা।

ম্যাচের ৩৭ মিনিটে চো ইউ-রির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বিরতির পর ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কিম হেই-রি এবং ৭৫ মিনিটে ইউ জিন-কোর গোলে বড় জয় পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে সেটা শুধু মাঠের স্কোরলাইন। স্বদেশে চলমান ধ্বংসযজ্ঞ, স্বজনদের জীবন নিয়ে শঙ্কার মতো বিষয়গুলো বুকে পাথরচাপা দিয়ে খেলার মাঠে দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা কি স্কোরলাইনের চেয়েও বড় নয়?

ইরানের মেয়েরা অন্তত সে জন্য একটি করতালি পেতেই পারেন এবং গ্যালারি থেকে সেটা তাঁরা পেয়েছেনও। কোরিয়ার রক্ষণে ইরানের মেয়েরা একটু ভীতির সঞ্চার করলেই করতালি ভেসে এসেছে গ্যালারি থেকে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান। ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। এবার ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া ইরানের বাকি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন। ৫ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরান মুখোমুখি হবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার। তিনটি গ্রুপে মোট ১২টি দল নিয়ে এ টুর্নামেন্টে প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি জায়গা করে নেবে নকআউট পর্বে। এই তিনটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই তৃতীয় অবস্থানে থাকা দলও নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।