টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা হলো না ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ইতালির। প্লে-অফের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে বসনিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো আজ্জুরিদের। অপরদিকে ইতালিকে হারিয়ে বিশ^কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বসনিয়া। ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ড্র হলে খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে বসনিয়ার চতুর্থ শটটি যখন জালের ঠিকানা খুঁজে নিল, ঠিক তখনই জেনিৎসার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে নেমে এল এক শ্মশান নীরবতা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির খেলোয়াড়রা তখন সবুজ ঘাসে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। সামনে বসনিয়ার রূপকথার জয়োল্লাস, আর ইতালিয়ানদের চোখে অবিশ্বাসের নোনা জল। ২০১৮ এবং ২০২২ সালের পর ২০২৬Ñঅভিশপ্ত এই বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না নীল জার্সিধারীরা। প্লে-অফের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে বসনিয়ার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল আজ্জুরিদের।
ম্যাচের শুরুটা কিন্তু ইতালির জন্য ছিল আশাজাগানিয়া। জেনিৎসার মাঠে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছিল তারা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে লিড এনে দেন মইসে কিন। সেই মুহূর্তে গ্যালারিতে থাকা ইতালি সমর্থকদের উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান বুঝি আজই হতে চলেছে। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন অন্য চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিলেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইতালি মুহূর্তেই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইতালির ওপর স্টিম রোলার চালায় বসনিয়া। গোলরক্ষক জানলুইজি দোনারুম্মা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে কয়েকবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন। কিন্তু ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ডেডিচের রক্ষণচেরা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন তাবাকোভিচ। ১-১ সমতায় ফেরে বসনিয়া।নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে ইতালির খেলোয়াড়রা যেন স্নায়ুচাপ সামলাতেই হিমশিম খেলেন। দুটি শট মিস করে বসে তারা। অন্যদিকে বসনিয়া ছিল ক্লিনিক্যাল; ৪-১ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে তারা নিশ্চিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট।