তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তুরস্ক, বেলজিয়াম ও ইথিওপিয়া সফরের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জোরদারে কাজ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল তুরস্কে অবস্থান করবেন তিনি। এই সফরে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। এ সময় বিদেশি মিশন প্রধানদের সম্মানে আয়োজিত একটি সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট চাইবেন। এই তিন দেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই ফোরামে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেবেন। সফরকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। ফোরামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে এই সফরে। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করবে বাংলাদেশ।
তুরস্ক সফর শেষে ১৯ এপ্রিল ব্রাসেলস যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় সই অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করবেন ড. খলিলুর রহমান এবং ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কালা কালাস ইইউয়ের পক্ষে সই করবেন। ব্রাসেলস সফরকালে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও জাতিসংঘের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যাবেন এবং সেখানে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অবস্থান করবেন। আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরে অবস্থানকালে তিনি আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে জয়লাভের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ জোর কূটনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছে। আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সাইপ্রাস। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন তিনি এবং এই সফরগুলো সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা।
এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। সে সময় দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. খলিলুর রহমান প্রথম বিদেশ সফর করেন সৌদি আরবে। সেখানে জেদ্দায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) জরুরি বৈঠকে অংশ নেন তিনি। পরবর্তীসময়ে তিনি লন্ডন, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন, ভারত এবং মরিশাস সফর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সফর ছাড়া বাকি প্রায় সব সফরেই তার সঙ্গে ছিলেন হুমায়ূন কবির।