কুষ্টিয়া জেলা ও দৌলতপুর সংবাদদাতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর আবদুর রহমান শামীম হত্যাকা-ের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের জড়িয়ে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দৌলতপুর উপজেলা শাখা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দৌলতপুর থানার সামনে গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

উপজেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য নূরুল আমিন জসিম। বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক এনামুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ফিলিপনগরে সংঘটিত পীর শামীম হত্যাকা-ের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- সমর্থন করে না। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল এই হত্যাকা-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ঘটনার সময়ের ভিডিওতে যাদের স্পষ্টভাবে হামলা ও ভাঙচুর করতে দেখা গেছে, তাদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। উল্টো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাজা আহমেদসহ নিরপরাধ নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, মামলার বাদী প্রথমে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও পরবর্তীতে ‘অদৃশ্য শক্তির’ চাপে জামায়াত নেতাদের নাম জড়িয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন, যা তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপকৌশল।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে খাজা আহমেদসহ নিরপরাধ নেতাকর্মীদের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে নিজ আস্তানায় কয়েকশ’ মানুষের হামলায় নিহত হন আবদুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদকে প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করা হচ্ছে।